নুসরাত হত্যা মামলার রায় ২৪ আগস্ট, হাইকোর্টে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আগামী ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তির জন্য ওই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজালাল, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ কয়েকজন আইনজীবী।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ে মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের ও প্রভাষক আফসার উদ্দিন। এছাড়া মামলায় নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় উচ্চ আদালত। এর অংশ হিসেবে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।
এ ধরনের মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়।
এখন ২৪ আগস্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষ, আসামিপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।


























