ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টির তাণ্ডব: পানিতে তলিয়ে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব সংবাদ :

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ডুবে গেছে, যার ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকগামী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার পরিবহনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করেছে। ইতোমধ্যে মেরুং রাজাবাড়ি সংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রিতদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জলসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী মজুত রয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়া যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টির তাণ্ডব: পানিতে তলিয়ে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় ০৩:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ডুবে গেছে, যার ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকগামী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার পরিবহনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করেছে। ইতোমধ্যে মেরুং রাজাবাড়ি সংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রিতদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জলসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী মজুত রয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়া যায়।