ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণচাপে উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থার আহ্বান ড. তিতুমীরের

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণের বোঝা কমানো, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনিসেফের সদরদপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবুও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ড. তিতুমীরের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারীর কল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতিও বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বৈঠকে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভকাল, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান তিনি।

সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যেও শিশু, নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে টেড শেইবান বলেন, শিক্ষা, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঋণচাপে উন্নয়নশীল দেশ: জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থার আহ্বান ড. তিতুমীরের

আপডেট সময় ০৬:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণের বোঝা কমানো, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনিসেফের সদরদপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবুও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ড. তিতুমীরের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারীর কল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতিও বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বৈঠকে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভকাল, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান তিনি।

সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যেও শিশু, নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে টেড শেইবান বলেন, শিক্ষা, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।