ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্যের অভিযোগে শ্রীনগরে দোকানঘর নির্মাণ

নিজস্ব সংবাদ :

শ্রীনগর প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী আদালত ও থানায় প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।


অভিযোগকারী এম. শাহনেওয়াজ নয়ন (৪৫) জানান, তার চাচা আমির হোসেন ফকির, সেলিম ফকির, শহিদুল ইসলাম ফকির ও খসরুল আলম ফকিরের সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-২২১/২০২৫ দায়ের করেন। মামলাটি কামারগাঁও মৌজার আরএস দাগ নং-৪০৬৪, ৩৯৯৭, ৪১১৬, ৪০৪৯ ও ৪০৫৪ সংক্রান্ত।


তিনি দাবি করেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন, স্থাপনা নির্মাণ ও জমি হস্তান্তরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।


শাহনেওয়াজের অভিযোগ, গত ৪ এপ্রিল বিবাদীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে আরএস দাগ নং-৪০৬৪ ও ৩৯৯৭ নম্বর জমিতে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ৫ এপ্রিল তিনি শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তভার পান এসআই কামরুজ্জামান। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি থানায় উপস্থিত হলেও বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি।


পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিল আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভায়োলেশন পিটিশন (মামলা নং-১৬০/২০২৬) দায়ের করেন। কিন্তু এরপরও সম্প্রতি একই জমিতে পুনরায় দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


শাহনেওয়াজ আরও বলেন, বুধবার (৭,৮ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে ৯ জুলাই ঘটনা স্থলে আছেন। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও কথিত মিথ্যা মামলার কারণে তাকে দেশে এসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।


এই বিষয়ে অভিযুক্ত খসরুল আলম ফকির বলেন, আমি যে জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করছি, সেটি কয়েক বছর আগে আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করেছি এবং আমার নামে দলিল রয়েছে। আমি যে অংশে কাজ করছি, সেটি আমার মালিকানাধীন এবং ওই অংশে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই আমি আমার নিজস্ব জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগও সঠিক নয়।


​এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকতা শ্রীনগর থানার এস আই কামরুজ্জামান বলেন,এ ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি,পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে এবং দুপক্ষের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্যের অভিযোগে শ্রীনগরে দোকানঘর নির্মাণ

আপডেট সময় ০৯:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

শ্রীনগর প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী আদালত ও থানায় প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।


অভিযোগকারী এম. শাহনেওয়াজ নয়ন (৪৫) জানান, তার চাচা আমির হোসেন ফকির, সেলিম ফকির, শহিদুল ইসলাম ফকির ও খসরুল আলম ফকিরের সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-২২১/২০২৫ দায়ের করেন। মামলাটি কামারগাঁও মৌজার আরএস দাগ নং-৪০৬৪, ৩৯৯৭, ৪১১৬, ৪০৪৯ ও ৪০৫৪ সংক্রান্ত।


তিনি দাবি করেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন, স্থাপনা নির্মাণ ও জমি হস্তান্তরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।


শাহনেওয়াজের অভিযোগ, গত ৪ এপ্রিল বিবাদীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে আরএস দাগ নং-৪০৬৪ ও ৩৯৯৭ নম্বর জমিতে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ৫ এপ্রিল তিনি শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তভার পান এসআই কামরুজ্জামান। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি থানায় উপস্থিত হলেও বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি।


পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিল আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভায়োলেশন পিটিশন (মামলা নং-১৬০/২০২৬) দায়ের করেন। কিন্তু এরপরও সম্প্রতি একই জমিতে পুনরায় দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


শাহনেওয়াজ আরও বলেন, বুধবার (৭,৮ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে ৯ জুলাই ঘটনা স্থলে আছেন। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও কথিত মিথ্যা মামলার কারণে তাকে দেশে এসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।


এই বিষয়ে অভিযুক্ত খসরুল আলম ফকির বলেন, আমি যে জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করছি, সেটি কয়েক বছর আগে আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করেছি এবং আমার নামে দলিল রয়েছে। আমি যে অংশে কাজ করছি, সেটি আমার মালিকানাধীন এবং ওই অংশে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই আমি আমার নিজস্ব জায়গায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগও সঠিক নয়।


​এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকতা শ্রীনগর থানার এস আই কামরুজ্জামান বলেন,এ ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি,পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে এবং দুপক্ষের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।