অবশেষে মুক্তি পেল ‘বাদশা বাহাদুর’, সার্কাসের খাঁচা ছেড়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার পথে হাতি
বহু বছর ধরে বগুড়ার মহাস্থান এলাকায় একটি সার্কাসে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছিল ‘বাদশা বাহাদুর’ নামের হাতিটিকে। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাবে হাতিটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এরপর সরকারের নজরে এলে হাতিটির নিরাপত্তা ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়ার মহাস্থান বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতিটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার উদ্দেশে পাঠানো হয়, যেখানে তার চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে হাতিটির মালিক আব্দুর শুকুরের সঙ্গে আলোচনা করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় প্রাণীটিকে সরকারের জিম্মায় দিতে সম্মত হন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি পেল বাদশা বাহাদুর।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে মালিক স্বেচ্ছায় হাতিটি হস্তান্তর করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হাতিটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতিটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাদ্য এবং উপযোগী আবাসন নিশ্চিত করা হবে, যাতে সে ধীরে ধীরে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের বন কর্মকর্তাও জানান, প্রথমে হাতিটিকে একটি সাফারি পার্কে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে শনিবারই বগুড়া থেকে হাতিটিকে ঢাকার পথে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অবহেলা শেষে ‘বাদশা বাহাদুর’-এর এই স্থানান্তরকে প্রাণীকল্যাণে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, উন্নত চিকিৎসা ও পরিচর্যায় হাতিটি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।

























