ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে চার সন্তানের বাবা, চায়ের দোকানের আয়ে হিমশিম নাইমুল

নিজস্ব সংবাদ :

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিশা খাতুন। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর স্বামী নাইমুল ইসলামের। নগরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়েই সংসার চালান তিনি। চার নবজাতকের চিকিৎসা ও লালন-পালনের বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই বাবা।

গত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে রামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিশার চার সন্তান জন্ম নেয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের প্রত্যেকের ওজন ছিল তুলনামূলক কম। ফলে জন্মের পর তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয় হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে (স্ক্যানু)।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত গর্ভধারণের ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু তিশার চার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে ৩৪ সপ্তাহে। চার শিশুর মধ্যে দুজনের ওজন এক কেজি করে। অন্য দুজনের ওজন যথাক্রমে ১ কেজি ১০০ গ্রাম ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। চিকিৎসকেরা জানান, দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে নবজাতকের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

১৭ আগস্ট বিকেলে প্রসববেদনা নিয়ে তিশাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মের পর কম ওজনের কারণে চার শিশুকেই স্ক্যানু ইউনিটে রেখে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ১৯ আগস্ট থেকে তাদের অল্প অল্প করে মুখে খাবার দেওয়া শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ২৪ আগস্ট হাসপাতাল থেকে মা ও সন্তানদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তিশা খাতুন রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নাইমুল ইসলাম কোর্ট স্টেশন এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। ওই দোকান থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের পাঁচ সদস্যের সংসার—এখন সেখানে যোগ হয়েছে আরও চারটি নবজাতক।

নাইমুল ইসলাম বলেন, চায়ের দোকানের সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাঁর পরিবার চলে। একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম নেওয়ায় সংসারের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সন্তানদের খাবার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ জোগানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সহায়তার আশায় তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেখানে মা ও নবজাতকদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হলেও স্ত্রীর বয়স ২১ বছরের কম হলে তা দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। তবে নাইমুলের স্ত্রী তিশার বয়স বর্তমানে ২১ বছর ৭ মাস।

এর আগে সন্তান জন্মের আগেও সরকারি সহায়তার আশায় পবা উপজেলায় গিয়েছিলেন নাইমুল। তাঁর ভাষ্য, সারা দিন অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।

চার সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফেরার পর আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও যেন গ্রাস করেছে নাইমুলকে। একসঙ্গে চার শিশুর দায়িত্ব সামলাতে সরকারি বা মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছেন এই চা-দোকানি বাবা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

একসঙ্গে চার সন্তানের বাবা, চায়ের দোকানের আয়ে হিমশিম নাইমুল

আপডেট সময় ০২:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিশা খাতুন। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর স্বামী নাইমুল ইসলামের। নগরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়েই সংসার চালান তিনি। চার নবজাতকের চিকিৎসা ও লালন-পালনের বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই বাবা।

গত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে রামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিশার চার সন্তান জন্ম নেয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের প্রত্যেকের ওজন ছিল তুলনামূলক কম। ফলে জন্মের পর তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয় হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে (স্ক্যানু)।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত গর্ভধারণের ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু তিশার চার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে ৩৪ সপ্তাহে। চার শিশুর মধ্যে দুজনের ওজন এক কেজি করে। অন্য দুজনের ওজন যথাক্রমে ১ কেজি ১০০ গ্রাম ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। চিকিৎসকেরা জানান, দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে নবজাতকের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

১৭ আগস্ট বিকেলে প্রসববেদনা নিয়ে তিশাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মের পর কম ওজনের কারণে চার শিশুকেই স্ক্যানু ইউনিটে রেখে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ১৯ আগস্ট থেকে তাদের অল্প অল্প করে মুখে খাবার দেওয়া শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ২৪ আগস্ট হাসপাতাল থেকে মা ও সন্তানদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তিশা খাতুন রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নাইমুল ইসলাম কোর্ট স্টেশন এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। ওই দোকান থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের পাঁচ সদস্যের সংসার—এখন সেখানে যোগ হয়েছে আরও চারটি নবজাতক।

নাইমুল ইসলাম বলেন, চায়ের দোকানের সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাঁর পরিবার চলে। একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম নেওয়ায় সংসারের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সন্তানদের খাবার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ জোগানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সহায়তার আশায় তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেখানে মা ও নবজাতকদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হলেও স্ত্রীর বয়স ২১ বছরের কম হলে তা দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। তবে নাইমুলের স্ত্রী তিশার বয়স বর্তমানে ২১ বছর ৭ মাস।

এর আগে সন্তান জন্মের আগেও সরকারি সহায়তার আশায় পবা উপজেলায় গিয়েছিলেন নাইমুল। তাঁর ভাষ্য, সারা দিন অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।

চার সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফেরার পর আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও যেন গ্রাস করেছে নাইমুলকে। একসঙ্গে চার শিশুর দায়িত্ব সামলাতে সরকারি বা মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছেন এই চা-দোকানি বাবা।