ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; লিগ্যাল এইডে প্রবাসীর বাবার দ্বারস্থ পরিবার

নিজস্ব সংবাদ :

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী সাইফুল ইসলাম মাসুমের বাবা আবুল বাশার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তার ছেলে মাসুমকে বিয়েতে বাধ্য করেন নাছরুম। পরে প্রবাসে উপার্জিত অর্থে জমি কেনার কথা বলে কৌশলে জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপরও নাছরুমের পক্ষ থেকে পরিবারটির ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়। এ ঘটনায় এর আগে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় পরিবারটি।

আবুল বাশারের ভাষ্য, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে তার বাবার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট তিনি ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। পরে আইনি প্রতিকারের আশায় লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন তারা।

অভিযোগে মাসুমের সঙ্গে নাছরুমের বিয়ের কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি হলফনামা দেখিয়ে বিয়ের দাবি করা হয়। তবে যাচাইয়ের পর ওই আইনজীবী এমন কোনো হলফনামা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষর করা একটি কাবিননামা উপস্থাপন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কাজি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ওই কাবিননামাটি তার রেজিস্টারে নিবন্ধিত হয়নি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নাছরুমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফরিদ নামে এক যুবকসহ মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগরের সঙ্গে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগের কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি একাধিক বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

নিজেকে মাসুমের বৈধ স্ত্রী দাবি করে নাছরুম আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাসুমের বাড়িতে সংসার করছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পরও ওই বাড়িতেই থাকতে চান।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা চান। একই সঙ্গে বিয়ের নথিপত্র, সম্পত্তি এবং অর্থ-স্বর্ণালংকার সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; লিগ্যাল এইডে প্রবাসীর বাবার দ্বারস্থ পরিবার

আপডেট সময় ০৪:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী সাইফুল ইসলাম মাসুমের বাবা আবুল বাশার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তার ছেলে মাসুমকে বিয়েতে বাধ্য করেন নাছরুম। পরে প্রবাসে উপার্জিত অর্থে জমি কেনার কথা বলে কৌশলে জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপরও নাছরুমের পক্ষ থেকে পরিবারটির ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়। এ ঘটনায় এর আগে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় পরিবারটি।

আবুল বাশারের ভাষ্য, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে তার বাবার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট তিনি ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। পরে আইনি প্রতিকারের আশায় লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন তারা।

অভিযোগে মাসুমের সঙ্গে নাছরুমের বিয়ের কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি হলফনামা দেখিয়ে বিয়ের দাবি করা হয়। তবে যাচাইয়ের পর ওই আইনজীবী এমন কোনো হলফনামা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষর করা একটি কাবিননামা উপস্থাপন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কাজি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ওই কাবিননামাটি তার রেজিস্টারে নিবন্ধিত হয়নি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নাছরুমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফরিদ নামে এক যুবকসহ মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগরের সঙ্গে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগের কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি একাধিক বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

নিজেকে মাসুমের বৈধ স্ত্রী দাবি করে নাছরুম আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাসুমের বাড়িতে সংসার করছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পরও ওই বাড়িতেই থাকতে চান।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা চান। একই সঙ্গে বিয়ের নথিপত্র, সম্পত্তি এবং অর্থ-স্বর্ণালংকার সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।