আজই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, নজর স্পিকারের দেশে ফেরায়
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ (শুক্রবার) পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তার কাছেই স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচয় গোপন রাখা তিনটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে বলেন, স্পিকার দেশে ফেরার পরই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়। এ কারণে স্পিকারের নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফেরার খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে পারেন।
বঙ্গভবনের একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের বিষয়ে মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদত্যাগের কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বৈঠক এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকেও রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে কিছু সূত্র দাবি করলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য নেই।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, পদত্যাগের পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

























