ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাচার হওয়া অর্থের ব্যাংক হিসাব থেকে কর-শুল্ক আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব সংবাদ :

বিদেশে পাচার করা সম্পদ আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ ও করণীয় নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি সদস্য হিসেবে থাকছেন।

এ ছাড়া এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের পথ নির্ধারণ করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও মতামত দেবে কমিটি।

এ জন্য প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, কী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ আদায় সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে সমন্বয় বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের অনুসন্ধান, অর্থের উৎস ও গতিপথ শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ফলে এসব কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতেই নতুন এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি ওই সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের জন্য একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। আদালতের আদেশে অর্থ বা সম্পদ আটকে দেওয়ার পর রাষ্ট্রের পাওনা আদায়ে যেসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে কমিটি।

সরকার মনে করছে, আন্তমন্ত্রণালয় এই কমিটির মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পথও আরও সুগম হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাচার হওয়া অর্থের ব্যাংক হিসাব থেকে কর-শুল্ক আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

আপডেট সময় ০৩:৪৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে পাচার করা সম্পদ আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ ও করণীয় নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি সদস্য হিসেবে থাকছেন।

এ ছাড়া এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের পথ নির্ধারণ করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও মতামত দেবে কমিটি।

এ জন্য প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, কী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ আদায় সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে সমন্বয় বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের অনুসন্ধান, অর্থের উৎস ও গতিপথ শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ফলে এসব কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতেই নতুন এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি ওই সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের জন্য একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। আদালতের আদেশে অর্থ বা সম্পদ আটকে দেওয়ার পর রাষ্ট্রের পাওনা আদায়ে যেসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে কমিটি।

সরকার মনে করছে, আন্তমন্ত্রণালয় এই কমিটির মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পথও আরও সুগম হবে।