টানা বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের তাণ্ডব: চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানি ৩০, দুর্গতদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা
চট্টগ্রাম বিভাগে টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং একাধিক পাহাড় ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলা। সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদে রাখতে পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটির ২১টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়ির ১৩৫টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও কক্সবাজারে ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো মানুষ অবস্থান করছেন না।

দুর্গতদের সহায়তায় সরকার দুই দফায় বিশেষ ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে। প্রথম দফায় ৭ জুলাই পাঁচ জেলার প্রত্যেকটিকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এরপর ৯ জুলাই শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামকে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারকে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে হতাহতের পাশাপাশি বহু পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, শিশু খাদ্য এবং তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


























