ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আগুন: ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা জবাব তেহরানের

নিজস্ব সংবাদ :

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন দফায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌঘাঁটি এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সফল অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ওই অঞ্চলে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এর আগের দিনও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে। তখন সেন্টকম জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে, তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অঞ্চলজুড়ে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আগুন: ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা জবাব তেহরানের

আপডেট সময় ০৪:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন দফায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌঘাঁটি এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সফল অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ওই অঞ্চলে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এর আগের দিনও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে। তখন সেন্টকম জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে, তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অঞ্চলজুড়ে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।