নবম পে-স্কেলে বড় সুখবর! চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ায় এখন কেবল অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষা। সবকিছু অনুকূলে থাকলে খুব শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের সুপারিশ মন্ত্রিসভায় তোলার জন্য অর্থ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির একাধিক সদস্যের মতে, আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন সম্ভব না হলে পরবর্তী বৈঠকেই যেন এটি অনুমোদনের জন্য তোলা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল সুপারিশ আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিচার বিভাগসংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয় সমাধানের জন্য সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে নতুন বেতন ব্যবস্থা দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে শুধুমাত্র মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তী অর্থবছর থেকে বাড়তি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা চালু করা হবে।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে। অতীতেও অষ্টম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
কমিটি ইতোমধ্যে বেসামরিক, সামরিক এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা ও সমন্বয় করেছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই সমন্বিত সুপারিশ এখন অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের সঙ্গে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এসব সুবিধা নতুন বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

























