ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে নদীপথে ছুটত লঞ্চ, আজ সেখানে ঝোপঝাড়—অস্তিত্ব সংকটে মুন্সীগঞ্জের রজত রেখা নদী

নিজস্ব সংবাদ :

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
একসময় যে নদীপথ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষির প্রাণকেন্দ্র, সেই ঐতিহ্যবাহী রজত রেখা নদী আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার এই নদী এখন অধিকাংশ জায়গায় শুকিয়ে মরা খালের রূপ নিয়েছে। কোথাও গজিয়েছে ঝোপঝাড়, কোথাও আবার অবৈধভাবে ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীটি খনন না করায় তলদেশে পলি জমে নাব্যতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর সঙ্গে দিঘিরপাড় বাজারের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত নদীতে ফেলা এবং উৎসমুখে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে নদীটির স্বাভাবিক অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ, পণ্যবাহী ট্রলার ও নৌকা চলাচল করত। নদীপথেই মানুষ সহজে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতেন। চরাঞ্চলের কৃষিপণ্যও এই পথ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাত। সেই ব্যস্ত নদীপথ এখন কেবল স্মৃতির অংশ হয়ে রয়েছে।

নদীটির মৃত্যু শুধু একটি জলাধারের বিলীন হওয়া নয়, এর প্রভাব পড়েছে পুরো এলাকার কৃষি ও পরিবেশে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। একসময় যেখানে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে পানির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী শুকিয়ে যাওয়ার সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল নদীর জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে নদীর প্রস্থ দিন দিন আরও সংকুচিত হচ্ছে। নদী রক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মানুষ।

রজত রেখা নদীর তীরের বাসিন্দা আবু সালাম বলেন, ছোটবেলায় তিনি এই নদীতে বড় বড় লঞ্চ চলতে দেখেছেন এবং নিজেও বহুবার নদীপথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করেছেন। তার ভাষায়, একসময় নদীটি এত গভীর ছিল যে এর সৌন্দর্য ও গুরুত্ব আজকের প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। এখন সেটি প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, রজত রেখা নদী পুনঃখননের একটি প্রকল্প রয়েছে। তবে নির্ধারিত অংশে পানি জমে থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিকল্প স্থান দিয়ে খননকাজ শুরুর অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীটি পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যে নদীপথে ছুটত লঞ্চ, আজ সেখানে ঝোপঝাড়—অস্তিত্ব সংকটে মুন্সীগঞ্জের রজত রেখা নদী

আপডেট সময় ০৬:১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
একসময় যে নদীপথ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষির প্রাণকেন্দ্র, সেই ঐতিহ্যবাহী রজত রেখা নদী আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার এই নদী এখন অধিকাংশ জায়গায় শুকিয়ে মরা খালের রূপ নিয়েছে। কোথাও গজিয়েছে ঝোপঝাড়, কোথাও আবার অবৈধভাবে ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীটি খনন না করায় তলদেশে পলি জমে নাব্যতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর সঙ্গে দিঘিরপাড় বাজারের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত নদীতে ফেলা এবং উৎসমুখে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে নদীটির স্বাভাবিক অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ, পণ্যবাহী ট্রলার ও নৌকা চলাচল করত। নদীপথেই মানুষ সহজে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতেন। চরাঞ্চলের কৃষিপণ্যও এই পথ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাত। সেই ব্যস্ত নদীপথ এখন কেবল স্মৃতির অংশ হয়ে রয়েছে।

নদীটির মৃত্যু শুধু একটি জলাধারের বিলীন হওয়া নয়, এর প্রভাব পড়েছে পুরো এলাকার কৃষি ও পরিবেশে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। একসময় যেখানে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে পানির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী শুকিয়ে যাওয়ার সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল নদীর জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে নদীর প্রস্থ দিন দিন আরও সংকুচিত হচ্ছে। নদী রক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মানুষ।

রজত রেখা নদীর তীরের বাসিন্দা আবু সালাম বলেন, ছোটবেলায় তিনি এই নদীতে বড় বড় লঞ্চ চলতে দেখেছেন এবং নিজেও বহুবার নদীপথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করেছেন। তার ভাষায়, একসময় নদীটি এত গভীর ছিল যে এর সৌন্দর্য ও গুরুত্ব আজকের প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। এখন সেটি প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, রজত রেখা নদী পুনঃখননের একটি প্রকল্প রয়েছে। তবে নির্ধারিত অংশে পানি জমে থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিকল্প স্থান দিয়ে খননকাজ শুরুর অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীটি পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।