রাখাইনে তীব্র বিমান হামলা, বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত; আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন বাসিন্দারা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র বিমান হামলা ও গোলাগুলির প্রভাব এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তেও। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে কয়েক দফায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শব্দের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকের কাছে তা ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়।
টেকনাফের বাসিন্দা সৈয়দ আলম জানান, দীর্ঘদিন পর এত শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তারা। বিস্ফোরণের কম্পনে জানালার কাঁচ ভেঙে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল এবং পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম বলেন, মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত চারবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথমে তিনি ভূমিকম্প হয়েছে বলে ধারণা করলেও পরে বুঝতে পারেন, শব্দগুলো মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকেই আসছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বহুদিন পর আবারও রাখাইনে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি টেকনাফ সীমান্তে অনুভূত হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেই গোলাগুলির শব্দ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষ চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলির শব্দ এপারেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের সময়ও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে একই ধরনের মর্টার শেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও রাখাইনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


























