ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গায় দুই মহল্লার সংঘর্ষে গুলিতে তরুণ নিহত, দেড় ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

নিজস্ব সংবাদ :

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা মিলন শেখের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পূর্ব হাসানদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ঢাল নিয়ে কুমার নদের দুই তীরে অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন সুমন শেখ। তার বন্ধু ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান জানান, আহত হওয়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কেও। রাত ৮টা থেকে প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সুযোগে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, কীভাবে ওই তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ব্যবহৃত গুলির ধরন কী ছিল, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাঙ্গায় দুই মহল্লার সংঘর্ষে গুলিতে তরুণ নিহত, দেড় ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

আপডেট সময় ০২:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা মিলন শেখের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পূর্ব হাসানদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ঢাল নিয়ে কুমার নদের দুই তীরে অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন সুমন শেখ। তার বন্ধু ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান জানান, আহত হওয়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কেও। রাত ৮টা থেকে প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সুযোগে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, কীভাবে ওই তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ব্যবহৃত গুলির ধরন কী ছিল, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।