ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নতুন রেকর্ড, মিলল প্রায় ১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা

নিজস্ব সংবাদ :

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ অনুদান। ছয় মাস পর খোলা দানবাক্সগুলো থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা উদ্ধার হয়েছে, যা মসজিদের ইতিহাসে একবারে সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দীর্ঘ গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়। অতীতে সাধারণত চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর তা খোলা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে টাকাগুলো বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনা করা হয়। এ কাজে মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী, মসজিদের কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশের দাতাদের জন্য মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও বাংলা সংস্করণ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনুদান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। এ পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানের অর্থ দিয়ে ২০০২ সালে পাগলা মসজিদের পাশে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৩০ জন এতিম শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া প্রতিবছর ওয়াকফ এস্টেটের অডিটর মসজিদের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নতুন রেকর্ড, মিলল প্রায় ১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৩:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ অনুদান। ছয় মাস পর খোলা দানবাক্সগুলো থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা উদ্ধার হয়েছে, যা মসজিদের ইতিহাসে একবারে সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দীর্ঘ গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়। অতীতে সাধারণত চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর তা খোলা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে টাকাগুলো বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনা করা হয়। এ কাজে মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী, মসজিদের কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশের দাতাদের জন্য মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও বাংলা সংস্করণ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনুদান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। এ পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানের অর্থ দিয়ে ২০০২ সালে পাগলা মসজিদের পাশে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৩০ জন এতিম শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া প্রতিবছর ওয়াকফ এস্টেটের অডিটর মসজিদের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।