ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“বছরের শেষেই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, তারেক-আনোয়ার বৈঠকে বহুমুখী সহযোগিতার নতুন অধ্যায়”

নিজস্ব সংবাদ :

কুয়ালালামপুর, ২২ জুন: চলতি বছরের শেষ সময় থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যায়।

বৈঠকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে উভয় দেশ একমত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে অনুরোধ জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ প্রক্রিয়ায় কাজের সুযোগ দেওয়া, কারাবন্দী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা কমানোর বিষয়ে সহযোগিতা করতে। জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-টু-বিদ্যালয় অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। পাশাপাশি জাতিসংঘ, ওআইসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

বৈঠকে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশকে ‘বিশ্বস্ত ও সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে ‘বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিল মালয়েশিয়াই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“বছরের শেষেই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, তারেক-আনোয়ার বৈঠকে বহুমুখী সহযোগিতার নতুন অধ্যায়”

আপডেট সময় ১১:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কুয়ালালামপুর, ২২ জুন: চলতি বছরের শেষ সময় থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যায়।

বৈঠকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে উভয় দেশ একমত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে অনুরোধ জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ প্রক্রিয়ায় কাজের সুযোগ দেওয়া, কারাবন্দী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা কমানোর বিষয়ে সহযোগিতা করতে। জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-টু-বিদ্যালয় অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। পাশাপাশি জাতিসংঘ, ওআইসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

বৈঠকে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশকে ‘বিশ্বস্ত ও সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে ‘বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিল মালয়েশিয়াই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।