ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টওয়াচ কি সত্যিই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারে? কতটা নির্ভরযোগ্য হার্টবিট, অক্সিজেন, ইসিজি ও ঘুমের তথ্য

নিজস্ব সংবাদ :

একসময় হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, ঘুমের গুণগত মান কিংবা শরীরচর্চার অগ্রগতি জানতে হাসপাতালের বিশেষায়িত যন্ত্রের প্রয়োজন হতো। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন সেই তথ্যের অনেকটাই হাতের কব্জিতে বাঁধা একটি স্মার্টওয়াচ থেকেই দেখা সম্ভব। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অ্যাপল ওয়াচ, স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ, গারমিন, ফিটবিট কিংবা গুগল পিক্সেল ওয়াচের মতো পরিধানযোগ্য ডিভাইসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই ডিভাইসগুলো যে স্বাস্থ্য-তথ্য দেখায়, তা কতটা নির্ভুল? চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কি সত্যিই কমিয়ে দিতে পারে স্মার্টওয়াচ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টওয়াচ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি হলেও এটি কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ বা হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বিকল্প নয়। বরং এটি ব্যবহারকারীকে নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

হৃদস্পন্দন পরিমাপে কতটা নির্ভুল?

বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টওয়াচে ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (PPG) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ঘড়ির নিচে থাকা এলইডি সেন্সর ত্বকে আলো ফেলে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে হৃদস্পন্দনের হিসাব করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্রামের সময় কিংবা স্বাভাবিক হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের সময় অ্যাপল, গারমিন ও ফিটবিটের মতো ব্র্যান্ডের ডিভাইসগুলো বেশ নির্ভুল ফলাফল দিতে পারে। তবে দ্রুত দৌড়ানো, ভারোত্তোলন, সাইক্লিং কিংবা হাতের অতিরিক্ত নড়াচড়ার সময় সেন্সরের রিডিংয়ে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ফলাফল পেলেই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (SpO₂)

অনেক স্মার্টওয়াচে থাকা SpO₂ সেন্সর লাল ও ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে রক্তে অক্সিজেনের সম্ভাব্য মাত্রা নির্ণয় করে।

এটি দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়ক হলেও হাসপাতালের মেডিকেল-গ্রেড পালস অক্সিমিটারের সমমানের নয়। ত্বকের রং, হাতের অবস্থান, ঠান্ডা আবহাওয়া, ট্যাটু, ঘড়ি ঢিলাভাবে পরা কিংবা শরীরে রক্তপ্রবাহ কম থাকলেও ফলাফলে পার্থক্য আসতে পারে।

স্মার্টওয়াচের ইসিজি কতটা কার্যকর?

উন্নতমানের কিছু স্মার্টওয়াচে ১-লিড ইসিজি সুবিধা রয়েছে, যা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (AFib)-এর মতো সমস্যার সম্ভাব্য সংকেত শনাক্ত করতে পারে।

তবে এটি হাসপাতালের ১২-লিড ইসিজির বিকল্প নয়। হার্ট অ্যাটাক বা জটিল হৃদরোগ নির্ণয়ে স্মার্টওয়াচের ইসিজির ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। কোনো সতর্কবার্তা বা অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘুমের মান বিশ্লেষণ

স্মার্টওয়াচ শরীরের নড়াচড়া, হৃদস্পন্দন এবং বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের সময়কাল, গভীর ঘুম, হালকা ঘুম ও REM ঘুমের একটি ধারণা দেয়।

তবে এটি পলিসমনোগ্রাফি পরীক্ষার মতো মস্তিষ্কের তরঙ্গ, শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা চোখের নড়াচড়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। তাই স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্যান্য ঘুমজনিত রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

স্টেপ কাউন্টে কোথায় ভুল হয়?

হাঁটার ধাপ গণনায় স্মার্টওয়াচের অ্যাক্সেলেরোমিটার ও জাইরোস্কোপ সেন্সর সাধারণত ভালো কাজ করে। তবে ট্রেডমিলে হাঁটা, খুব ধীরে চলা, বেবি স্ট্রলার ঠেলা বা হাত স্থির রেখে হাঁটার সময় ধাপ গণনায় কিছুটা গড়মিল হতে পারে।

ক্যালোরি, VO₂ Max ও স্ট্রেস স্কোর

সবচেয়ে বেশি ত্রুটি দেখা যায় ক্যালোরি খরচের হিসাবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাস্তব ক্যালোরি ব্যয়ের তুলনায় স্মার্টওয়াচের তথ্যে ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।

একইভাবে VO₂ Max, স্ট্রেস স্কোর, রিকভারি স্কোর বা ‘বডি রেডিনেস’-এর মতো সূচকগুলোও সরাসরি মাপা হয় না। হৃদস্পন্দন, নড়াচড়া, বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং অন্যান্য সেন্সর ডেটার ভিত্তিতে অ্যালগরিদম সম্ভাব্য ফলাফল তৈরি করে। তাই এগুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভুল তথ্য নয়, বরং ফিটনেসের একটি নির্দেশক হিসেবেই দেখা উচিত।

কম দামের স্মার্টওয়াচ নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের বাজারে ২ থেকে ৫ হাজার টাকার অসংখ্য স্বল্পমূল্যের স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়। অনেক ডিভাইসেই রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, শরীরের তাপমাত্রা কিংবা ইসিজি পরিমাপের দাবি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল গবেষণা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। অনেক সময় একই সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচকের ফলাফল দেখানো হয়, যা বাস্তব শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। ফলে এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ আরও উন্নত

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টওয়াচে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, ঘুমের জটিলতা শনাক্তকরণ, এমনকি ডায়াবেটিস পর্যবেক্ষণের জন্য নন-ইনভেসিভ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব প্রযুক্তির অনেকগুলোই এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্মার্টওয়াচকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসচেতনতার একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এটি দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম, ব্যায়াম, ঘুমের অভ্যাস ও হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তাও দিতে সক্ষম।

তবে কোনো অস্বাভাবিক রিডিং, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে শুধু স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, স্মার্টওয়াচ একজন চিকিৎসক নয়; বরং এটি আপনার স্বাস্থ্যের একজন ডিজিটাল সহকারী। সচেতনতা বাড়াতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের হাতেই থাকা উচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্মার্টওয়াচ কি সত্যিই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারে? কতটা নির্ভরযোগ্য হার্টবিট, অক্সিজেন, ইসিজি ও ঘুমের তথ্য

আপডেট সময় ০৩:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

একসময় হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, ঘুমের গুণগত মান কিংবা শরীরচর্চার অগ্রগতি জানতে হাসপাতালের বিশেষায়িত যন্ত্রের প্রয়োজন হতো। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন সেই তথ্যের অনেকটাই হাতের কব্জিতে বাঁধা একটি স্মার্টওয়াচ থেকেই দেখা সম্ভব। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অ্যাপল ওয়াচ, স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ, গারমিন, ফিটবিট কিংবা গুগল পিক্সেল ওয়াচের মতো পরিধানযোগ্য ডিভাইসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই ডিভাইসগুলো যে স্বাস্থ্য-তথ্য দেখায়, তা কতটা নির্ভুল? চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কি সত্যিই কমিয়ে দিতে পারে স্মার্টওয়াচ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টওয়াচ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি হলেও এটি কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ বা হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বিকল্প নয়। বরং এটি ব্যবহারকারীকে নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

হৃদস্পন্দন পরিমাপে কতটা নির্ভুল?

বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টওয়াচে ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (PPG) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ঘড়ির নিচে থাকা এলইডি সেন্সর ত্বকে আলো ফেলে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে হৃদস্পন্দনের হিসাব করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্রামের সময় কিংবা স্বাভাবিক হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের সময় অ্যাপল, গারমিন ও ফিটবিটের মতো ব্র্যান্ডের ডিভাইসগুলো বেশ নির্ভুল ফলাফল দিতে পারে। তবে দ্রুত দৌড়ানো, ভারোত্তোলন, সাইক্লিং কিংবা হাতের অতিরিক্ত নড়াচড়ার সময় সেন্সরের রিডিংয়ে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ফলাফল পেলেই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (SpO₂)

অনেক স্মার্টওয়াচে থাকা SpO₂ সেন্সর লাল ও ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে রক্তে অক্সিজেনের সম্ভাব্য মাত্রা নির্ণয় করে।

এটি দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়ক হলেও হাসপাতালের মেডিকেল-গ্রেড পালস অক্সিমিটারের সমমানের নয়। ত্বকের রং, হাতের অবস্থান, ঠান্ডা আবহাওয়া, ট্যাটু, ঘড়ি ঢিলাভাবে পরা কিংবা শরীরে রক্তপ্রবাহ কম থাকলেও ফলাফলে পার্থক্য আসতে পারে।

স্মার্টওয়াচের ইসিজি কতটা কার্যকর?

উন্নতমানের কিছু স্মার্টওয়াচে ১-লিড ইসিজি সুবিধা রয়েছে, যা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (AFib)-এর মতো সমস্যার সম্ভাব্য সংকেত শনাক্ত করতে পারে।

তবে এটি হাসপাতালের ১২-লিড ইসিজির বিকল্প নয়। হার্ট অ্যাটাক বা জটিল হৃদরোগ নির্ণয়ে স্মার্টওয়াচের ইসিজির ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। কোনো সতর্কবার্তা বা অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘুমের মান বিশ্লেষণ

স্মার্টওয়াচ শরীরের নড়াচড়া, হৃদস্পন্দন এবং বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের সময়কাল, গভীর ঘুম, হালকা ঘুম ও REM ঘুমের একটি ধারণা দেয়।

তবে এটি পলিসমনোগ্রাফি পরীক্ষার মতো মস্তিষ্কের তরঙ্গ, শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা চোখের নড়াচড়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। তাই স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্যান্য ঘুমজনিত রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

স্টেপ কাউন্টে কোথায় ভুল হয়?

হাঁটার ধাপ গণনায় স্মার্টওয়াচের অ্যাক্সেলেরোমিটার ও জাইরোস্কোপ সেন্সর সাধারণত ভালো কাজ করে। তবে ট্রেডমিলে হাঁটা, খুব ধীরে চলা, বেবি স্ট্রলার ঠেলা বা হাত স্থির রেখে হাঁটার সময় ধাপ গণনায় কিছুটা গড়মিল হতে পারে।

ক্যালোরি, VO₂ Max ও স্ট্রেস স্কোর

সবচেয়ে বেশি ত্রুটি দেখা যায় ক্যালোরি খরচের হিসাবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাস্তব ক্যালোরি ব্যয়ের তুলনায় স্মার্টওয়াচের তথ্যে ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।

একইভাবে VO₂ Max, স্ট্রেস স্কোর, রিকভারি স্কোর বা ‘বডি রেডিনেস’-এর মতো সূচকগুলোও সরাসরি মাপা হয় না। হৃদস্পন্দন, নড়াচড়া, বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং অন্যান্য সেন্সর ডেটার ভিত্তিতে অ্যালগরিদম সম্ভাব্য ফলাফল তৈরি করে। তাই এগুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভুল তথ্য নয়, বরং ফিটনেসের একটি নির্দেশক হিসেবেই দেখা উচিত।

কম দামের স্মার্টওয়াচ নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের বাজারে ২ থেকে ৫ হাজার টাকার অসংখ্য স্বল্পমূল্যের স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়। অনেক ডিভাইসেই রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, শরীরের তাপমাত্রা কিংবা ইসিজি পরিমাপের দাবি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল গবেষণা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। অনেক সময় একই সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচকের ফলাফল দেখানো হয়, যা বাস্তব শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। ফলে এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ আরও উন্নত

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টওয়াচে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, ঘুমের জটিলতা শনাক্তকরণ, এমনকি ডায়াবেটিস পর্যবেক্ষণের জন্য নন-ইনভেসিভ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব প্রযুক্তির অনেকগুলোই এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্মার্টওয়াচকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসচেতনতার একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এটি দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম, ব্যায়াম, ঘুমের অভ্যাস ও হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তাও দিতে সক্ষম।

তবে কোনো অস্বাভাবিক রিডিং, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে শুধু স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, স্মার্টওয়াচ একজন চিকিৎসক নয়; বরং এটি আপনার স্বাস্থ্যের একজন ডিজিটাল সহকারী। সচেতনতা বাড়াতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের হাতেই থাকা উচিত।