ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

কাগজের খবর ডেস্ক:

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে করা প্রস্তাবিত চুক্তি পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না।

রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, সোমবার চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর ফলে ট্রাম্পের লক্ষ্য কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে।ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসব চুক্তি করা হয়েছিল।

২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হয়। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পরই ট্রাম্প চুক্তিটি কার্যকরের জন্য ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে শর্ত করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করতে চেয়েছিলেন এবং সেটিকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সৌদি আরব এখন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

৩০ বছর মেয়াদি এই পারমাণবিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার। এতে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন ওয়েস্টিংহাউস উপকৃত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে করা প্রস্তাবিত চুক্তি পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না।

রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, সোমবার চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর ফলে ট্রাম্পের লক্ষ্য কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে।ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসব চুক্তি করা হয়েছিল।

২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হয়। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পরই ট্রাম্প চুক্তিটি কার্যকরের জন্য ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে শর্ত করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করতে চেয়েছিলেন এবং সেটিকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সৌদি আরব এখন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

৩০ বছর মেয়াদি এই পারমাণবিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার। এতে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন ওয়েস্টিংহাউস উপকৃত হবে।