সরকারের পাঁচ মাস পর দল গোছাতে মাঠে তারেক রহমান, শুরু হচ্ছে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন
সরকার পরিচালনার পাঁচ মাস পার হতেই এবার বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন করে গতি আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকা বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন তিনি।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমানো এবং আগামী বছরে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েই এই উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। অনেক নেতাকর্মীও ব্যক্তিগত পেশা ও ব্যবসায় বেশি সময় দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আবারও সক্রিয় ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
একই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর করতে এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।
গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারেক রহমান। সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও তিনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরপর স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের সার্বিক অবস্থা, জেলা কমিটির কার্যক্রম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক রহমান। পাশাপাশি যেসব জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যেন কোনো বিতর্ক বা বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদের সেই কমিটির সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
দিনের শেষ বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা আলোচনা করেন তারেক রহমান। সেখানে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির অবস্থা, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের ভাষ্য, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে তিনি দলীয় কার্যক্রমে আরও নিয়মিত সময় দেবেন এবং শক্তিশালী ও গতিশীল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবেন।

























