শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত, ‘প্রক্রিয়া সক্রিয়’ বললেন শামা ওবায়েদ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে কোনো ধরনের স্থবিরতা নেই; নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগিয়ে চলছে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের কারণে কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন এলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আবার সক্রিয়ভাবে চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অন্য দেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক নিয়ম, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এসব কারণে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শামা ওবায়েদ জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় আলোচনা চলছে এবং বন্দি প্রত্যর্পণ বা আসামি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও বিদ্যমান চুক্তির বিধান অনুসরণ করা হবে।
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আদালতের রায়ে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ফলে তার ব্যক্তিগত মন্তব্যের চেয়ে আইনি প্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
তিনি আরও বলেন, দেশে সংঘটিত হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হওয়া উচিত—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রশাসনে বদলি ও নতুন নিয়োগ একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। যথাসময়ে সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবে।
তিনি দাবি করেন, দেশের স্বার্থ, কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

























