ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের উন্মাদনার আড়ালে সাইবার জাল: এক ক্লিকেই খোয়া যেতে পারে টাকা, হ্যাক হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য

নিজস্ব সংবাদ :

মনিরুজ্জামান মনির ,বিশেষ প্রতিবেদক

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যখন কোটি কোটি সমর্থক প্রিয় দলের খেলা দেখতে ব্যস্ত, তখনই নীরবে বিস্তার ঘটছে এক ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা চক্রের। খেলা দেখার উত্তেজনাকে পুঁজি করে অনলাইনে ফাঁদ পেতেছে হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীরা। ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং, জুয়া ও বেটিং সাইট, এমনকি ‘নিশ্চিত জয়ের গোপন পূর্বাভাস’-এর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি অন্তত ৩৩৬টি ভুয়া ডোমেইন শনাক্ত হয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে ম্যাচ দেখার লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের নিবন্ধন করানো হচ্ছে। পরে ‘লাইফটাইম টুর্নামেন্ট অ্যাক্সেস’ দেওয়ার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একবার অর্থ পাঠানোর পর যেমন টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যও চলে যাচ্ছে অপরাধীদের হাতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নয়; বরং পরিচয় চুরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং ডিজিটাল জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ভয়াবহ ঝুঁকিও তৈরি করছে।

এর পাশাপাশি ভুয়া বেটিং ও ম্যাচ পূর্বাভাসের ওয়েবসাইটগুলোও ব্যাপকভাবে সক্রিয়। অ্যাকাউন্ট খোলার নামে সংগ্রহ করা হচ্ছে নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য। কেউ যদি একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং অ্যাপ কিংবা ই-মেইল অ্যাকাউন্টও হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট বিশ্লেষক ওলগা আলতুখোভা সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বিভিন্ন ভাষায় ভুয়া স্ট্রিমিং ও বেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করছে। ফলে অসতর্কতার এক মুহূর্তেই ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ও তথ্যগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

শুধু ওয়েবসাইট নয়, ফুটবলপ্রেমীদের ই-মেইল ইনবক্সেও পৌঁছে যাচ্ছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ। ‘বিশেষ ম্যাচ বিশ্লেষণ’, ‘গ্যারান্টিযুক্ত জয়ের পূর্বাভাস’ কিংবা ‘গোপন তথ্য’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে ফিশিং ই-মেইল। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় তথাকথিত ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের পর অনেকেই বুঝতে পেরেছেন, তারা আসলে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—বিশ্বকাপের উত্তেজনায় একটি ভুল ক্লিকই হতে পারে সর্বনাশের শুরু। তাই যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারের আগে ঠিকানা যাচাই, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপের উন্মাদনার আড়ালে সাইবার জাল: এক ক্লিকেই খোয়া যেতে পারে টাকা, হ্যাক হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য

আপডেট সময় ০৫:৪৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

মনিরুজ্জামান মনির ,বিশেষ প্রতিবেদক

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যখন কোটি কোটি সমর্থক প্রিয় দলের খেলা দেখতে ব্যস্ত, তখনই নীরবে বিস্তার ঘটছে এক ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা চক্রের। খেলা দেখার উত্তেজনাকে পুঁজি করে অনলাইনে ফাঁদ পেতেছে হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীরা। ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং, জুয়া ও বেটিং সাইট, এমনকি ‘নিশ্চিত জয়ের গোপন পূর্বাভাস’-এর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি অন্তত ৩৩৬টি ভুয়া ডোমেইন শনাক্ত হয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে ম্যাচ দেখার লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের নিবন্ধন করানো হচ্ছে। পরে ‘লাইফটাইম টুর্নামেন্ট অ্যাক্সেস’ দেওয়ার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একবার অর্থ পাঠানোর পর যেমন টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যও চলে যাচ্ছে অপরাধীদের হাতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নয়; বরং পরিচয় চুরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং ডিজিটাল জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ভয়াবহ ঝুঁকিও তৈরি করছে।

এর পাশাপাশি ভুয়া বেটিং ও ম্যাচ পূর্বাভাসের ওয়েবসাইটগুলোও ব্যাপকভাবে সক্রিয়। অ্যাকাউন্ট খোলার নামে সংগ্রহ করা হচ্ছে নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য। কেউ যদি একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং অ্যাপ কিংবা ই-মেইল অ্যাকাউন্টও হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট বিশ্লেষক ওলগা আলতুখোভা সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বিভিন্ন ভাষায় ভুয়া স্ট্রিমিং ও বেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করছে। ফলে অসতর্কতার এক মুহূর্তেই ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ও তথ্যগত ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

শুধু ওয়েবসাইট নয়, ফুটবলপ্রেমীদের ই-মেইল ইনবক্সেও পৌঁছে যাচ্ছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ। ‘বিশেষ ম্যাচ বিশ্লেষণ’, ‘গ্যারান্টিযুক্ত জয়ের পূর্বাভাস’ কিংবা ‘গোপন তথ্য’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে ফিশিং ই-মেইল। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় তথাকথিত ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের পর অনেকেই বুঝতে পেরেছেন, তারা আসলে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—বিশ্বকাপের উত্তেজনায় একটি ভুল ক্লিকই হতে পারে সর্বনাশের শুরু। তাই যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারের আগে ঠিকানা যাচাই, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।