বিক্ষোভ ঠেকাতে নতুন কৌশলে মুম্বাই পুলিশ, শিক্ষার্থীদের ফোন-বাসায় হাজিরা ও লাইভ লোকেশন চাওয়ার অভিযোগ
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মুম্বাই পুলিশের কর্মকাণ্ড। বিক্ষোভে আগে অংশ নেওয়া এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে এফআইআর হয়েছে, তাদের পুনরায় রাজপথে নামা ঠেকাতে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, তাদের মোবাইলে ফোন করে বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেকের বাসায় পুলিশ গিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে এবং কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে তাদের কাছে লাইভ লোকেশন চালু রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে।
এমন অভিযোগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ভারসোভা থানার এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে এক বিক্ষোভকারীকে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি লাইভ লোকেশন চালু রাখতে বলতে দেখা যায়। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে থানার অপর এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর রয়েছে, যদিও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের এই পদক্ষেপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বুধবারের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। বিশেষ করে যেসব তরুণ পরিবারকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জানাননি, তাদের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ায় পরিবারও বিষয়টি জেনে যায় এবং এতে তারা মানসিক চাপের মুখে পড়েন।
২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, দাদার এলাকার শিবাজি পার্ক থানা থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার বাড়িতে যাবে। তাই তাকে বাসায় থাকতে বলা হয়। তার ভাষ্য, এটি মূলত আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল।
শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর জোট মুম্বাই এগেইনস্ট সাপ্রেশন অব স্টুডেন্টস (MASS)–এর এক সদস্য দাবি করেন, গত কয়েক দিনের আন্দোলনের পর অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই আইনি নোটিশ পৌঁছেছে। এরপর বুধবার সকালে কয়েকজনকে ফোন করে জানানো হয়, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর রয়েছে এবং নতুন করে কোনো বিক্ষোভে অংশ নিলে আরও আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
এক প্রকৌশল শিক্ষার্থী জানান, তার এক বন্ধু পুলিশের এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নির্ধারিত কর্মসূচিতে আর যোগ দেননি, যদিও তারা আগে থেকেই একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অন্যদিকে, পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো নয়, বরং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাই তাদের উদ্দেশ্য। তার দাবি, অনেক তরুণ এফআইআরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে অবগত নন। তাই তাদের বিরুদ্ধে আরও আইনি জটিলতা তৈরি হওয়া থেকে বিরত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলন সমন্বয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এসব গ্রুপে বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নম্বরও পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভাষ্য, ভবিষ্যতে পাসপোর্ট যাচাইসহ বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ায় আইনি মামলার প্রভাব পড়তে পারে—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের নতুন করে বিক্ষোভে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


























