ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, সময় বাড়ানো বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে; দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে বিশেষ সুযোগ পাবে পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব সংবাদ :

দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে দ্রুত শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি, মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর মতামত পর্যালোচনা করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই একদিকে যেমন পরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী যেন দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, কোথাও অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা বা যাতায়াত সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি কিংবা পরীক্ষা স্থগিতের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া আবহাওয়ার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে না পারলে, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুলের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রশ্নগুলোর জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করলেও মাহদী আমিন বলেন, এটি ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওই কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থীর জন্য প্রশাসন পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেয় এবং পূর্ণ সময় নিশ্চিত করে। কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি কেন্দ্রের বিচ্ছিন্ন ছবি বা ভিডিও দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, মতপার্থক্য ও গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তিনি পরীক্ষার্থীদের অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী পরীক্ষাগুলোও নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, সময় বাড়ানো বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে; দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে বিশেষ সুযোগ পাবে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০২:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে দ্রুত শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি, মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর মতামত পর্যালোচনা করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই একদিকে যেমন পরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী যেন দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, কোথাও অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা বা যাতায়াত সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি কিংবা পরীক্ষা স্থগিতের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া আবহাওয়ার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে না পারলে, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুলের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রশ্নগুলোর জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করলেও মাহদী আমিন বলেন, এটি ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওই কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থীর জন্য প্রশাসন পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেয় এবং পূর্ণ সময় নিশ্চিত করে। কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি কেন্দ্রের বিচ্ছিন্ন ছবি বা ভিডিও দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, মতপার্থক্য ও গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তিনি পরীক্ষার্থীদের অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী পরীক্ষাগুলোও নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।