ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদের পাল্টা ব্যাখ্যা, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা’

নিজস্ব সংবাদ :

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা দুটি ঘটনার কোনোটির সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে তিনি বলেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। সাবেক এই উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা এবং ১৫০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই ঘটনায় মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ছাড়াও তৎকালীন ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া সচিব, একজন যুগ্ম সচিব এবং একজন উপসচিবকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

৩৮ কর্মকর্তার বিষয়ে যা বললেন আসিফ

৭৬ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে নিয়ম না মেনে ১১২ জন দশম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই নবম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় তাঁরা ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত বিধিতে চলতি দায়িত্বে কোনো কর্মকর্তাকে ছয় মাসের বেশি রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে ২০২৫ সালে ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায় কার্যকর করতে গিয়ে তখন দায়িত্বে থাকা ৩৮ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে তাঁদের নিজ নিজ মূল পদে ফেরত পাঠানো হয়। আসিফ মাহমুদের দাবি, দুদকের অভিযোগে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পদোন্নতিতে পিএসসির সুপারিশ মানা হয়েছে: আসিফ

অন্যদিকে, ১৫০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ জানান, ৩৮ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলসহ বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার মোট ১৮২টি পদে পদোন্নতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়েছিল। পরে পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতেই ১৮২ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুতের সময় চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর), বিভাগীয় মামলা কিংবা শাস্তিমূলক কোনো বিষয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পিএসসিতে পাঠানো হয়েছিল। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পিএসসি পদোন্নতির সুপারিশ দেয়।

তাই এই প্রক্রিয়ায় ২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দুটি আদেশেই আমি সাইনিং অথরিটি ছিলাম না

অভিযোগের দুটি প্রক্রিয়াতেই নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসিফ মাহমুদ বলেন, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয় উপদেষ্টা পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয় না; এসব সিদ্ধান্ত সচিব পর্যায়েই সম্পন্ন হয়।

তাঁর ভাষায়, দুটি আদেশেই তিনি সই করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন না। সই করেছেন সচিব। ফলে প্রশাসনিকভাবে ওই দুই প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না।

আসিফ মাহমুদ বলেন, অভিযোগের আগে সংশ্লিষ্ট পদায়ন ও পদোন্নতির ফাইল এবং পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। সত্যতা বের করতে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানান।

দুদকের কাছে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

এদিকে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানোর সময় দুদকের এক কর্মকর্তা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি দাবি করেন, পরে ওই কর্মকর্তা দুদক বিটের সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুলবশত ‘সত্যতা পাওয়ার’ কথা বলে ফেলেছেন এবং বিষয়টি প্রচার না করার অনুরোধ করেন।

এ ঘটনাকে নিজের জন্য মানহানিকর উল্লেখ করে দুদকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে মানহানির মামলা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্য করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তিনি আইনগতভাবেই তার মোকাবিলা করবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদের পাল্টা ব্যাখ্যা, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা’

আপডেট সময় ০২:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা দুটি ঘটনার কোনোটির সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে তিনি বলেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। সাবেক এই উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা এবং ১৫০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই ঘটনায় মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ছাড়াও তৎকালীন ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া সচিব, একজন যুগ্ম সচিব এবং একজন উপসচিবকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

৩৮ কর্মকর্তার বিষয়ে যা বললেন আসিফ

৭৬ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে নিয়ম না মেনে ১১২ জন দশম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই নবম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় তাঁরা ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত বিধিতে চলতি দায়িত্বে কোনো কর্মকর্তাকে ছয় মাসের বেশি রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে ২০২৫ সালে ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায় কার্যকর করতে গিয়ে তখন দায়িত্বে থাকা ৩৮ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে তাঁদের নিজ নিজ মূল পদে ফেরত পাঠানো হয়। আসিফ মাহমুদের দাবি, দুদকের অভিযোগে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পদোন্নতিতে পিএসসির সুপারিশ মানা হয়েছে: আসিফ

অন্যদিকে, ১৫০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ জানান, ৩৮ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলসহ বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার মোট ১৮২টি পদে পদোন্নতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়েছিল। পরে পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতেই ১৮২ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুতের সময় চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর), বিভাগীয় মামলা কিংবা শাস্তিমূলক কোনো বিষয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পিএসসিতে পাঠানো হয়েছিল। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পিএসসি পদোন্নতির সুপারিশ দেয়।

তাই এই প্রক্রিয়ায় ২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দুটি আদেশেই আমি সাইনিং অথরিটি ছিলাম না

অভিযোগের দুটি প্রক্রিয়াতেই নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসিফ মাহমুদ বলেন, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয় উপদেষ্টা পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয় না; এসব সিদ্ধান্ত সচিব পর্যায়েই সম্পন্ন হয়।

তাঁর ভাষায়, দুটি আদেশেই তিনি সই করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন না। সই করেছেন সচিব। ফলে প্রশাসনিকভাবে ওই দুই প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না।

আসিফ মাহমুদ বলেন, অভিযোগের আগে সংশ্লিষ্ট পদায়ন ও পদোন্নতির ফাইল এবং পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। সত্যতা বের করতে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানান।

দুদকের কাছে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

এদিকে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানোর সময় দুদকের এক কর্মকর্তা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি দাবি করেন, পরে ওই কর্মকর্তা দুদক বিটের সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুলবশত ‘সত্যতা পাওয়ার’ কথা বলে ফেলেছেন এবং বিষয়টি প্রচার না করার অনুরোধ করেন।

এ ঘটনাকে নিজের জন্য মানহানিকর উল্লেখ করে দুদকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে মানহানির মামলা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্য করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তিনি আইনগতভাবেই তার মোকাবিলা করবেন।