ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুলাই আন্দোলন কারও একার নয়, এটি ছিল জনগণের সম্মিলিত লড়াই’ — রিজভী

নিজস্ব সংবাদ :

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের নয়; বরং ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি এবং পেশাজীবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সেই আন্দোলন সফলতা পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখা আয়োজিত ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচির প্রতি বিএনপি শুরু থেকেই সমর্থন জানিয়েছিল। ৫ জুন থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচিগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য। তার দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের পতন না ঘটলে এবং আন্দোলন ব্যর্থ হলে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ত।

তিনি আরও বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন একসময় গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরে এক দফার দাবিতে বিস্তৃত হয়। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নার্সদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, তারা মানবতার সেবায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দেশের স্বাস্থ্যখাতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য, তাই তাদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময়ে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক অধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ জুলুম-নির্যাতন ও কারাবাসের পরও বিএনপি রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপির সহ-সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) ও ন্যাব সভাপতি জাহানারা খাতুন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব সুজন মিয়া।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই আন্দোলন কারও একার নয়, এটি ছিল জনগণের সম্মিলিত লড়াই’ — রিজভী

আপডেট সময় ০৩:০৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের নয়; বরং ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি এবং পেশাজীবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সেই আন্দোলন সফলতা পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখা আয়োজিত ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচির প্রতি বিএনপি শুরু থেকেই সমর্থন জানিয়েছিল। ৫ জুন থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচিগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য। তার দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের পতন না ঘটলে এবং আন্দোলন ব্যর্থ হলে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ত।

তিনি আরও বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন একসময় গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরে এক দফার দাবিতে বিস্তৃত হয়। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নার্সদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, তারা মানবতার সেবায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দেশের স্বাস্থ্যখাতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য, তাই তাদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময়ে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক অধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ জুলুম-নির্যাতন ও কারাবাসের পরও বিএনপি রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপির সহ-সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) ও ন্যাব সভাপতি জাহানারা খাতুন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব সুজন মিয়া।