জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি, তিন দফা দাবি ঘোষণা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাইয়ের শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া ১৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও উপজেলায় একই ধরনের স্মরণমূলক কর্মসূচি পালিত হবে। ১ আগস্ট সারাদেশে গণমিছিল এবং ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে রাজধানীসহ সারা দেশে সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের মহিলা বিভাগ, ছাত্রসংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মও নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবিও তুলে ধরে দলটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের ফল ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে অন্যদের সমালোচনা করার আগে বিএনপির নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা উচিত। তাঁর ভাষ্য, অতীতে যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ ছিল, তাদেরই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিল বিএনপি। তাই অন্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলার আগে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। করপোরেট মালিকানাধীন গণমাধ্যমের কাছে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর না হলে দেশের রাজনৈতিক সংকট কাটবে না। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
অন্যদিকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক না বাড়িয়ে জুলাইয়ের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করা উচিত।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তাঁর মতে, বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না হলে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এর ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে দলটি আপসহীন থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

























