ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্মের আগে-পরে প্লাস্টিকের রাসায়নিকের সংস্পর্শে ভবিষ্যতে বাড়তে পারে উদ্বেগের ঝুঁকি: গবেষণা

নিজস্ব সংবাদ :

শিশুর জন্মের আগে এবং জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশপর্বে প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ ভবিষ্যতে তার মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে উদ্বেগজনিত সমস্যা (অ্যাংজাইটি) দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলন ‘এনডো ২০২৬’-এ উপস্থাপিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আয়ার্স স্কুল অব মেডিসিনের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ওসভালদো হুয়ান পোনজো। গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিককে নমনীয় ও টেকসই করতে ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত রাসায়নিক মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যার প্রভাব অনেক বছর পরও থেকে যেতে পারে।

গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, জীবনের একেবারে শুরুর দিকে ডিইএইচপি (ডাই-(২-ইথাইলহেক্সাইল) ফথালেট) নামের একটি প্লাস্টিসাইজারের সংস্পর্শে থাকা পুরুষ ইঁদুরগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অন্য ইঁদুরের তুলনায় বেশি উদ্বেগপ্রবণ আচরণ প্রদর্শন করে। তাদের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ততা, অস্বাভাবিক স্থির হয়ে থাকা এবং নতুন পরিবেশে কম স্বাচ্ছন্দ্যবোধের মতো আচরণ বেশি দেখা যায়, যেগুলোকে গবেষকেরা উদ্বেগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন।

ডিইএইচপি এমন একটি রাসায়নিক, যা চিকিৎসাসামগ্রী, খেলনা, শাওয়ার পর্দা, রেইনকোটসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর আগের গবেষণাগুলোতেও এই যৌগ এবং এর ভাঙনজাত উপাদান মানুষের ও প্রাণীর প্রজনন, স্নায়ুতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে গর্ভবতী স্ত্রী ইঁদুরকে গর্ভধারণের শুরু থেকে বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ডিইএইচপি দেওয়া হয়। পরে বাচ্চাগুলো ৭০ দিন বয়সে পৌঁছালে তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শৈশবের সেই প্রাথমিক সংস্পর্শ শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরও উদ্বেগজনিত আচরণ বজায় থাকে।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক পোনজোর ভাষ্য, ভ্রূণাবস্থা ও জন্ম-পরবর্তী বিকাশপর্বে ডিইএইচপির মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শ আচরণগত পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী কারণ হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই রাসায়নিকের সংস্পর্শে না এলেও এর প্রভাব থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। তাই মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব কতটা ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবুও ফলাফলটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এন্ডোক্রাইন বা হরমোন ব্যবস্থাকে প্রভাবিতকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জন্মের আগে-পরে প্লাস্টিকের রাসায়নিকের সংস্পর্শে ভবিষ্যতে বাড়তে পারে উদ্বেগের ঝুঁকি: গবেষণা

আপডেট সময় ১২:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

শিশুর জন্মের আগে এবং জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশপর্বে প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ ভবিষ্যতে তার মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে উদ্বেগজনিত সমস্যা (অ্যাংজাইটি) দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলন ‘এনডো ২০২৬’-এ উপস্থাপিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আয়ার্স স্কুল অব মেডিসিনের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ওসভালদো হুয়ান পোনজো। গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিককে নমনীয় ও টেকসই করতে ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত রাসায়নিক মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যার প্রভাব অনেক বছর পরও থেকে যেতে পারে।

গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, জীবনের একেবারে শুরুর দিকে ডিইএইচপি (ডাই-(২-ইথাইলহেক্সাইল) ফথালেট) নামের একটি প্লাস্টিসাইজারের সংস্পর্শে থাকা পুরুষ ইঁদুরগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অন্য ইঁদুরের তুলনায় বেশি উদ্বেগপ্রবণ আচরণ প্রদর্শন করে। তাদের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ততা, অস্বাভাবিক স্থির হয়ে থাকা এবং নতুন পরিবেশে কম স্বাচ্ছন্দ্যবোধের মতো আচরণ বেশি দেখা যায়, যেগুলোকে গবেষকেরা উদ্বেগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন।

ডিইএইচপি এমন একটি রাসায়নিক, যা চিকিৎসাসামগ্রী, খেলনা, শাওয়ার পর্দা, রেইনকোটসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর আগের গবেষণাগুলোতেও এই যৌগ এবং এর ভাঙনজাত উপাদান মানুষের ও প্রাণীর প্রজনন, স্নায়ুতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে গর্ভবতী স্ত্রী ইঁদুরকে গর্ভধারণের শুরু থেকে বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ডিইএইচপি দেওয়া হয়। পরে বাচ্চাগুলো ৭০ দিন বয়সে পৌঁছালে তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শৈশবের সেই প্রাথমিক সংস্পর্শ শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরও উদ্বেগজনিত আচরণ বজায় থাকে।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক পোনজোর ভাষ্য, ভ্রূণাবস্থা ও জন্ম-পরবর্তী বিকাশপর্বে ডিইএইচপির মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শ আচরণগত পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী কারণ হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই রাসায়নিকের সংস্পর্শে না এলেও এর প্রভাব থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। তাই মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব কতটা ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবুও ফলাফলটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এন্ডোক্রাইন বা হরমোন ব্যবস্থাকে প্রভাবিতকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।