ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা

নিজস্ব সংবাদ :

প্রতিবেদন:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কেটে জমির আকার পরিবর্তন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। এ সময় প্রধান শিক্ষককে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত জায়গা থেকে মাটি কেটে সরিয়ে ফেলেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা তৈরি করেন। এতে বিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে নুরুজ্জামান কাফি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর জমিটির প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা আদালতের রায় পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়নামার মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছেন। বৈধভাবে জমির দখল বুঝে পাওয়ার পরই সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে কাফি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা কথোপকথন হয়নি। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে।

এর আগে, বিদ্যালয়ের জমিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। পরে একই ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ যুক্ত করে আদালতে নতুন করে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

 

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা

আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

প্রতিবেদন:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কেটে জমির আকার পরিবর্তন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। এ সময় প্রধান শিক্ষককে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত জায়গা থেকে মাটি কেটে সরিয়ে ফেলেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা তৈরি করেন। এতে বিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে নুরুজ্জামান কাফি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর জমিটির প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা আদালতের রায় পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়নামার মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছেন। বৈধভাবে জমির দখল বুঝে পাওয়ার পরই সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে কাফি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা কথোপকথন হয়নি। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে।

এর আগে, বিদ্যালয়ের জমিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। পরে একই ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ যুক্ত করে আদালতে নতুন করে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।