ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার নিয়ে টানাপড়েন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এক সুর বিএনপি-জামায়াতের

নিজস্ব সংবাদ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্কার বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপ তৈরির রাজনীতি চললেও আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর প্রশ্নে তাদের অবস্থান অনেকটাই অভিন্ন।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ নিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি যাতে আবার রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যদিকে সংসদে সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে নানা ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গুলশানের মিছিল ঘিরে নতুন বার্তা

শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আকস্মিক মিছিলের পর বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি পৃথক কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭-এর মধ্যে এমন মিছিলের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সঙ্গে গুলশানের মিছিলের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে কথাবার্তাও হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপি এবং ১১ দলীয় জোটের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে তারা ঐক্য ধরে রাখতে আগ্রহী। এ কারণে ডিসেম্বরজুড়ে উভয় পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে পৃথক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুলশান-বনানায় নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচ্ছিন্ন মিছিলের পাশাপাশি গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় এমন কর্মসূচি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর হয়েছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানা গেছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনও বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে আর গ্রহণ করা হবে না।

সংস্কার ইস্যুতে দুই পক্ষের কৌশলী অবস্থান

অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দূরত্ব এখনো স্পষ্ট। এই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংসদেও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল সদস্য মনোনয়ন না দেওয়ায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনেও বিরোধী দলকে সীমিত রাখা হয়েছে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান সংসদে বিষয়ভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির মধ্যে বিরোধী দলকে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন দিলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিগুলোর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। এখনো বিরোধী দল থেকে নাম পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ক্ষমতাসীন দল।

সংশোধন নয়, সংস্কারের দাবি জামায়াতের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোট সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন তারা সমর্থন করে না। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

তবে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য, জুলাই সনদ কার্যকর করতে হলে প্রথমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এরপর সংশোধিত সংবিধানের মাধ্যমে সনদের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে—জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ১৩ জুলাই কমিটি গঠনের পর ৪ আগস্ট এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এটিই কমিটির একমাত্র বৈঠক। বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত কমিটিতে সদস্য দেবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিষয়টি নিয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার।

ফলে একদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে আপাতত অভিন্ন অবস্থানই দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংস্কার নিয়ে টানাপড়েন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এক সুর বিএনপি-জামায়াতের

আপডেট সময় ০৩:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্কার বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপ তৈরির রাজনীতি চললেও আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর প্রশ্নে তাদের অবস্থান অনেকটাই অভিন্ন।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ নিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি যাতে আবার রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যদিকে সংসদে সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে নানা ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গুলশানের মিছিল ঘিরে নতুন বার্তা

শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আকস্মিক মিছিলের পর বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি পৃথক কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭-এর মধ্যে এমন মিছিলের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সঙ্গে গুলশানের মিছিলের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে কথাবার্তাও হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপি এবং ১১ দলীয় জোটের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে তারা ঐক্য ধরে রাখতে আগ্রহী। এ কারণে ডিসেম্বরজুড়ে উভয় পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে পৃথক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুলশান-বনানায় নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচ্ছিন্ন মিছিলের পাশাপাশি গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় এমন কর্মসূচি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর হয়েছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানা গেছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনও বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে আর গ্রহণ করা হবে না।

সংস্কার ইস্যুতে দুই পক্ষের কৌশলী অবস্থান

অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দূরত্ব এখনো স্পষ্ট। এই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংসদেও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল সদস্য মনোনয়ন না দেওয়ায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনেও বিরোধী দলকে সীমিত রাখা হয়েছে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান সংসদে বিষয়ভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির মধ্যে বিরোধী দলকে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন দিলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিগুলোর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। এখনো বিরোধী দল থেকে নাম পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ক্ষমতাসীন দল।

সংশোধন নয়, সংস্কারের দাবি জামায়াতের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোট সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন তারা সমর্থন করে না। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

তবে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য, জুলাই সনদ কার্যকর করতে হলে প্রথমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এরপর সংশোধিত সংবিধানের মাধ্যমে সনদের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে—জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ১৩ জুলাই কমিটি গঠনের পর ৪ আগস্ট এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এটিই কমিটির একমাত্র বৈঠক। বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত কমিটিতে সদস্য দেবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিষয়টি নিয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার।

ফলে একদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে আপাতত অভিন্ন অবস্থানই দেখা যাচ্ছে।