ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, কে এই নাটালি?

কাগজের খবর ডেস্ক:

কে এই নাটালি?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তালিকায় ন্যাটালি হার্পের নাম বেশ আলোচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতো এত ঘন ঘন ট্রাম্পের পাশে আর কাউকে দেখা যায়নি বলেও গুঞ্জন চলছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? এমন প্রশ্নে মেলানিয়া ট্রাম্প আর সন্তানদের নাম তো আসবেই। কিন্তু ট্রাম্পের মতে এই তালিকায় যোগ করতে হবে আরও একজনকে। তিনি ৩৫ বছর বয়সি তরুণী নাটালি হার্প!

ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য, সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং ওভাল অফিসের ভেতরের বিশেষ প্রভাবের কারণে হোয়াইট হাউসের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নাকি একবার স্টাফদের বলেই বসেছিলেন, নাটালি তাকে মেলানিয়া ও সন্তানদের মতোই ভালোবাসেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তোমরা সবাই এক দিন চলে যাবে, টাকা কামাবে। কিন্তু সে আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না।’

সাবেক ডানপন্থী টেলিভিশন উপস্থাপক হার্প ২০২২ সালে ট্রাম্পের টিমে যুক্ত হন। এর আগে তিনি একসময় দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের নীতি ও সহায়তার কারণেই তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল— যা পরবর্তী সময়ে তার গভীর আনুগত্যে রূপ নেয়।

নাটালিকে নিয়ে এমন চর্চার কারণও অবশ্য কম নয়। একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত নাটালি দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি আইনের ফলে তিনি তার হাড়ের ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন।এরপর থেকে ট্রাম্পের প্রতি তার ভক্তি আকাশচুম্বী! ২০২২ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পোর্টেবল প্রিন্টার নিয়ে ঘুরতেন, যাতে ট্রাম্পকে পত্রিকার খবরের পাতা সঙ্গে সঙ্গেই প্রিন্ট করে দেওয়া যায়। এ জন্য তার নামই হয়ে যায় ‘দ্য হিউম্যান প্রিন্টার’।

সিএনএনের কাছে এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া একাধিক সূত্রের মতে, তার কাজের কৌশল জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের বিরক্ত করেছে এবং কোনো কোনো সময় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয় থেকে তাঁকে দূরে রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে।

ডানপন্থী টিভি চ্যানেলের সাবেক এই উপস্থাপিকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট ও বাইরের বিশ্বের মধ্যকার মূল সংযোগকারী মাধ্যম হয়ে উঠেছেন।

ট্রাম্পের কাছে মিত্রদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, বৈঠকের ব্যবস্থা করা, ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট লেখা এবং প্রশংসাসূচক নিবন্ধের প্রিন্টআউট বহন—সবকিছুই তিনি করেন। আর দিনের প্রতিটি মুহূর্তে ট্রাম্পের একদম কাছাকাছি থাকেন।

এদিকে ‘এমএস নাওয়ের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাটালি হার্প প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও প্রধান কার্যালয়ে (ওয়েস্ট উইং) কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ নিরাপত্তা যাচাই বা ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়াই হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন। অজ্ঞাত কারণে তিনি একাধিকবার এই নিরাপত্তা যাচাই পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের আওতায় পূর্ববর্তী আবাসন, আর্থিক ইতিহাস ও বিদেশি যোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নাটালি সম্প্রতি আবেদন করে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, কে এই নাটালি?

আপডেট সময় ০৬:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তালিকায় ন্যাটালি হার্পের নাম বেশ আলোচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতো এত ঘন ঘন ট্রাম্পের পাশে আর কাউকে দেখা যায়নি বলেও গুঞ্জন চলছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? এমন প্রশ্নে মেলানিয়া ট্রাম্প আর সন্তানদের নাম তো আসবেই। কিন্তু ট্রাম্পের মতে এই তালিকায় যোগ করতে হবে আরও একজনকে। তিনি ৩৫ বছর বয়সি তরুণী নাটালি হার্প!

ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য, সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং ওভাল অফিসের ভেতরের বিশেষ প্রভাবের কারণে হোয়াইট হাউসের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নাকি একবার স্টাফদের বলেই বসেছিলেন, নাটালি তাকে মেলানিয়া ও সন্তানদের মতোই ভালোবাসেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তোমরা সবাই এক দিন চলে যাবে, টাকা কামাবে। কিন্তু সে আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না।’

সাবেক ডানপন্থী টেলিভিশন উপস্থাপক হার্প ২০২২ সালে ট্রাম্পের টিমে যুক্ত হন। এর আগে তিনি একসময় দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের নীতি ও সহায়তার কারণেই তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল— যা পরবর্তী সময়ে তার গভীর আনুগত্যে রূপ নেয়।

নাটালিকে নিয়ে এমন চর্চার কারণও অবশ্য কম নয়। একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত নাটালি দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি আইনের ফলে তিনি তার হাড়ের ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন।এরপর থেকে ট্রাম্পের প্রতি তার ভক্তি আকাশচুম্বী! ২০২২ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পোর্টেবল প্রিন্টার নিয়ে ঘুরতেন, যাতে ট্রাম্পকে পত্রিকার খবরের পাতা সঙ্গে সঙ্গেই প্রিন্ট করে দেওয়া যায়। এ জন্য তার নামই হয়ে যায় ‘দ্য হিউম্যান প্রিন্টার’।

সিএনএনের কাছে এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া একাধিক সূত্রের মতে, তার কাজের কৌশল জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের বিরক্ত করেছে এবং কোনো কোনো সময় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয় থেকে তাঁকে দূরে রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে।

ডানপন্থী টিভি চ্যানেলের সাবেক এই উপস্থাপিকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট ও বাইরের বিশ্বের মধ্যকার মূল সংযোগকারী মাধ্যম হয়ে উঠেছেন।

ট্রাম্পের কাছে মিত্রদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, বৈঠকের ব্যবস্থা করা, ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট লেখা এবং প্রশংসাসূচক নিবন্ধের প্রিন্টআউট বহন—সবকিছুই তিনি করেন। আর দিনের প্রতিটি মুহূর্তে ট্রাম্পের একদম কাছাকাছি থাকেন।

এদিকে ‘এমএস নাওয়ের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাটালি হার্প প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও প্রধান কার্যালয়ে (ওয়েস্ট উইং) কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ নিরাপত্তা যাচাই বা ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়াই হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন। অজ্ঞাত কারণে তিনি একাধিকবার এই নিরাপত্তা যাচাই পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের আওতায় পূর্ববর্তী আবাসন, আর্থিক ইতিহাস ও বিদেশি যোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নাটালি সম্প্রতি আবেদন করে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করেছেন।