বার্লিন প্রাইডে রক্তাক্ত হামলার সন্দেহভাজন পুলিশের গুলিতে নিহত, উঠে এলো আইএস-সংযোগের তথ্য
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামীদের বার্ষিক প্রাইড শোভাযাত্রায় ভয়াবহ গাড়ি হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ২১ বছর বয়সী আবদুল বাল্লাউত (আবদুল বি) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার বার্লিনের স্পান্দাও এলাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় আবদুলকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি ছুরি হাতে পুলিশের দিকে তেড়ে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার রাতে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কসংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রাইড শোভাযাত্রায় একটি সাদা ভ্যান দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়লে একজন নারী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর চালক গাড়ি থেকে নেমে ছুরি নিয়েও উপস্থিত মানুষের ওপর হামলা চালান। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পরপরই বার্লিন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট হামলাটিকে সম্ভাব্য ইসলামপন্থি উগ্রবাদপ্রণোদিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই উগ্রপন্থা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক আবদুল বাল্লাউতের বিরুদ্ধে অতীতে উগ্রপন্থী সংগঠন আইএসের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ছিল। ২০২৫ সালে তিনি তুরস্ক হয়ে লেবাননে যান এবং সেখান থেকে সিরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একই বছর উগ্রবাদ–সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে জার্মানিতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বার্লিন পুলিশ পুনরায় তাকে আটক করে।
পরবর্তীতে একটি জার্মান আদালত তাকে এক বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর শর্তসাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। তবে মুক্তির মাত্র দুই মাসের মধ্যেই বার্লিনের এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তার নাম সামনে আসে।
বার্লিনে ঘটে যাওয়া এ হামলা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
























