ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে এক সপ্তাহেই সরকারের পতন সম্ভব’— কর্নেল অলি

নিজস্ব সংবাদ :

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক যদি একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে আসেন, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে কর্নেল অলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, উল্লিখিত তিন নেতা ঐক্যবদ্ধ হলে তারা বিপুল জনসমাগম ঘটানোর সক্ষমতা রাখেন, যা সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নই হবে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার একমাত্র পথ। ক্ষমতা, অর্থ বা পদ নয়— মানুষের কল্যাণে নেওয়া সিদ্ধান্তই একজন নেতাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সাহসী সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এলডিপি সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত নয়। তার দাবি, এ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

সমাবেশে তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

ভবিষ্যতে জনগণের দাবি উপেক্ষিত হলে আরও কঠোর রাজনৈতিক আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন কর্নেল অলি। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে সরকারবিরোধী এক দফার আন্দোলন জোরালো হতে পারে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে এক সপ্তাহেই সরকারের পতন সম্ভব’— কর্নেল অলি

আপডেট সময় ০৪:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক যদি একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে আসেন, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে কর্নেল অলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, উল্লিখিত তিন নেতা ঐক্যবদ্ধ হলে তারা বিপুল জনসমাগম ঘটানোর সক্ষমতা রাখেন, যা সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নই হবে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার একমাত্র পথ। ক্ষমতা, অর্থ বা পদ নয়— মানুষের কল্যাণে নেওয়া সিদ্ধান্তই একজন নেতাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সাহসী সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এলডিপি সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত নয়। তার দাবি, এ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

সমাবেশে তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

ভবিষ্যতে জনগণের দাবি উপেক্ষিত হলে আরও কঠোর রাজনৈতিক আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন কর্নেল অলি। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে সরকারবিরোধী এক দফার আন্দোলন জোরালো হতে পারে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।