ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই দুনিয়ায় মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ, ২৯ দেশ নিয়ে নতুন জোট গড়ল চীন

নিজস্ব সংবাদ :

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে এআই খাতে কোনো একক দেশের আধিপত্যের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বে ২৯টি দেশকে নিয়ে নতুন একটি বৈশ্বিক এআই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন কোনো একটি দেশের একক অর্জন নয়; বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল। তিনি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সীমিত না করে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় বাড়াতে।

শি আরও বলেন, ওপেন-সোর্স এআই উন্নয়ন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নিরাপদ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে ১৬ জুলাই চীনের উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (WAICO) নামে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এই জোটের মূল লক্ষ্য নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও মানবকল্যাণমুখী এআই ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরিতে সহযোগিতা করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে জাতিসংঘের এআই নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেও বেইজিং এই জোটকে ব্যবহার করতে পারে।

বর্তমানে এআই খাত চীনের শিল্পনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। উন্নত চিপ উৎপাদন, বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এআই গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। যদিও অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে, তবে ডেটা সেন্টার অবকাঠামো, বিরল খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বেইজিং এসব পদক্ষেপকে নিজেদের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। নতুন এআই জোটকে তাই অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রভাব মোকাবিলায় চীনের সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

নতুন এআই জোটের সদস্য ২৯ দেশ

চীন ছাড়াও এই জোটে রয়েছে আলজেরিয়া, ব্রাজিল, বেলারুশ, ক্যামেরুন, কম্বোডিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কেনিয়া, কিরগিজস্তান, লাওস, লেসোথো, মালয়েশিয়া, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, নিকারাগুয়া, ওমান, পাকিস্তান, রাশিয়া, সেনেগাল, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং জাম্বিয়া।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এআই দুনিয়ায় মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ, ২৯ দেশ নিয়ে নতুন জোট গড়ল চীন

আপডেট সময় ১২:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে এআই খাতে কোনো একক দেশের আধিপত্যের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বে ২৯টি দেশকে নিয়ে নতুন একটি বৈশ্বিক এআই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন কোনো একটি দেশের একক অর্জন নয়; বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল। তিনি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সীমিত না করে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় বাড়াতে।

শি আরও বলেন, ওপেন-সোর্স এআই উন্নয়ন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নিরাপদ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে ১৬ জুলাই চীনের উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (WAICO) নামে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এই জোটের মূল লক্ষ্য নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও মানবকল্যাণমুখী এআই ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরিতে সহযোগিতা করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে জাতিসংঘের এআই নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেও বেইজিং এই জোটকে ব্যবহার করতে পারে।

বর্তমানে এআই খাত চীনের শিল্পনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। উন্নত চিপ উৎপাদন, বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এআই গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। যদিও অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে, তবে ডেটা সেন্টার অবকাঠামো, বিরল খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বেইজিং এসব পদক্ষেপকে নিজেদের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। নতুন এআই জোটকে তাই অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রভাব মোকাবিলায় চীনের সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

নতুন এআই জোটের সদস্য ২৯ দেশ

চীন ছাড়াও এই জোটে রয়েছে আলজেরিয়া, ব্রাজিল, বেলারুশ, ক্যামেরুন, কম্বোডিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কেনিয়া, কিরগিজস্তান, লাওস, লেসোথো, মালয়েশিয়া, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, নিকারাগুয়া, ওমান, পাকিস্তান, রাশিয়া, সেনেগাল, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং জাম্বিয়া।