৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাবে গড়ার প্রত্যয় শিক্ষামন্ত্রীর
উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং উত্তরাঞ্চলে শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের স্বাগত জানাতে প্রতীকীভাবে ৮০টি আম্রপালি গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন এমপি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই। তবে সেই মেধাকে বিশ্বমানের দক্ষতায় রূপ দিতে প্রয়োজন আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের শিক্ষা খাতকে যুগোপযোগী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ক্যালেন্ডারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
সম্প্রতি নিজের একটি বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বক্তব্যের আংশিক বা বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। সমালোচনা থাকলেও শিক্ষা সংস্কারের কাজ থেমে থাকবে না। একই সঙ্গে দেশে অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রির মান ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ প্রণয়নের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই মডেল অনুসরণ করে নওগাঁ, চাঁদপুরসহ অন্যান্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনও পর্যায়ক্রমে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, কৃষিনির্ভর নওগাঁ আজ উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা নয়; বরং এ অঞ্চলে গবেষণা, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়; বরং এমন দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। এজন্য শিক্ষা হতে হবে কর্মমুখী, গবেষণাভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন।
জেনজি আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনের অবদান স্মরণীয় হলেও সেই চেতনা কোনোভাবেই পরীক্ষায় অনিয়ম বা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন করার সুযোগ তৈরি করতে পারে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে উল্লেখ করে তিনি সেসব অর্থের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কলকাতার দাদারা যখন আপনার প্রশংসা করবে, তখন বুঝবেন আমি ভুল পথে আছি। আর যখন তারা বদনাম করবে, তখন বুঝবেন আমরা সঠিক পথে আছি।”
এ সময় তিনি বগুড়া-নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সরকারি পরিকল্পনার কথাও জানান। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানউল্লাহ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


























