ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা ও হত্যাকারীদের বিচার হবেই’—জুলাই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ পরিবারের পাশে সরকার সবসময় থাকবে এবং যাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় এনে বাংলাদেশেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াও হতে হবে সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের কষ্ট তিনিও অনুভব করেছেন। তাই শহীদ পরিবার ও আহতদের যন্ত্রণা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। এই অর্জনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরীহ শিশুদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গভীর বেদনার।

তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কয়েকজন প্রতিনিধি তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বেদনার কথা উপস্থিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।

সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। সরকারি গেজেট অনুযায়ী ওই আন্দোলনে ৮৩৪ জন নিহতের তথ্য প্রকাশ করা হলেও, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা ও হত্যাকারীদের বিচার হবেই’—জুলাই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ০২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ পরিবারের পাশে সরকার সবসময় থাকবে এবং যাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় এনে বাংলাদেশেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াও হতে হবে সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের কষ্ট তিনিও অনুভব করেছেন। তাই শহীদ পরিবার ও আহতদের যন্ত্রণা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। এই অর্জনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরীহ শিশুদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গভীর বেদনার।

তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কয়েকজন প্রতিনিধি তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বেদনার কথা উপস্থিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।

সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। সরকারি গেজেট অনুযায়ী ওই আন্দোলনে ৮৩৪ জন নিহতের তথ্য প্রকাশ করা হলেও, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।