ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাসায়নিকে পাকানো ১২ হাজার কলা ধ্বংস

কাগজের খবর ডেস্ক:

১২ হাজার কলা ধ্বংস

পাবনার একটি গোয়ালঘরে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পাকিয়ে বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শনাক্ত করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রাসায়নিক প্রয়োগ করা প্রায় ১২ হাজার কলা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।

একই দিনে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অনিয়ম ও নকল-ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ২৭ জেলার ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে অধিদপ্তর।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৭টি জেলায় অধিদপ্তরের ৪০টি তদারকি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার সুরক্ষায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তদারকি করা হয়।

দিনের অভিযানে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে পাবনা জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হয়।

সেখানে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ রং ধারণ করিয়ে বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

একই সঙ্গে রাসায়নিক প্রয়োগ করা আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করা এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাদ্যপণ্যের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের বিষয়টিও তদারকি করা হয়।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়।

ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিতে ভূমিকা না রাখার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পণ্য কেনার সময় সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয় রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে ন্যায্যমূল্য, স্বাভাবিক সরবরাহ এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি প্রতিরোধে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাসায়নিকে পাকানো ১২ হাজার কলা ধ্বংস

আপডেট সময় ০৬:৪১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পাবনার একটি গোয়ালঘরে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পাকিয়ে বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শনাক্ত করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রাসায়নিক প্রয়োগ করা প্রায় ১২ হাজার কলা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।

একই দিনে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অনিয়ম ও নকল-ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ২৭ জেলার ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে অধিদপ্তর।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৭টি জেলায় অধিদপ্তরের ৪০টি তদারকি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার সুরক্ষায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তদারকি করা হয়।

দিনের অভিযানে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে পাবনা জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হয়।

সেখানে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ রং ধারণ করিয়ে বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

একই সঙ্গে রাসায়নিক প্রয়োগ করা আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করা এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাদ্যপণ্যের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের বিষয়টিও তদারকি করা হয়।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়।

ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিতে ভূমিকা না রাখার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পণ্য কেনার সময় সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয় রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে ন্যায্যমূল্য, স্বাভাবিক সরবরাহ এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি প্রতিরোধে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।