বদলগাছীতে হীরামণ টিয়ার অবাধ বিচরণ, মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
মাঠজুড়ে রঙিন হীরামণ টিয়ার ওড়াউড়ি। কখনো ধানের শিষ থেকে খাবার সংগ্রহ, কখনো দল বেঁধে এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে উড়ে যাওয়া—পাখিদের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে নওগাঁর বদলগাছীতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফাররা। পাখির স্বাভাবিক বিচরণের মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে দূরদূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন অনেকে।
বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামের ফসলের মাঠে দেখা মেলে হীরামণ টিয়ার এমন দৃশ্যের।
দোনইল গ্রামের সবুজ ফসলের মাঠের ওপর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে একদল হীরামণ টিয়া। কখনো ধানের শিষে বসে খাবার খাচ্ছে, কখনো ডানা ঝেড়ে নিচ্ছে, আবার মুহূর্তেই উড়ে যাচ্ছে অন্য মাঠে। হেমন্তের শিশিরভেজা সকালে পাখিদের এমন রঙিন বিচরণ মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সকাল থেকেই মাঠে আসছেন বিভিন্ন বয়সী ফটোগ্রাফার। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও হাতে ভিডিও ধারণের সরঞ্জাম। দূর থেকে পাখিদের স্বাভাবিক চলাফেরা ধারণ করছেন তারা। পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য।
দোনইল গ্রামের স্কুলশিক্ষক ও ফটোগ্রাফার সঞ্জয় কুমার বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দোনইল ও মহদীপুরের ফসলের মাঠে হীরামণ টিয়ার দেখা মিলছে। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তারা খাবার খেয়ে চলে যায়। আবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাদের দেখা মেলে। পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফাররা আসছেন।
হীরামণ টিয়ার বিচরণ ধরে রাখতে দোনইল গ্রামের পাখিপ্রেমী যুবক আরিফ আফরান নিজ খরচে তার জমিতে বিদেশি জনসন ঘাসের চাষ করেছেন। তার ভাষ্য, ওই ঘাস খেতে প্রতিদিন ভোরে হীরামণ টিয়ার দল আসে। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন ফটোগ্রাফার সেখানে পাখির ছবি তুলতে আসেন। এ পর্যন্ত শতাধিক ফটোগ্রাফার হীরামণ টিয়ার ছবি ধারণ করতে এসেছেন।
ফসলের মাঠে হীরামণ টিয়ার এমন অবাধ বিচরণ দেখতে নওগাঁর বদলগাছীতে আসছেন ঢাকা, রাজশাহী, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলার ফটোগ্রাফার ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। পাখিদের এই উপস্থিতি স্থানীয় প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য।

























