দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা, একজন আ.লীগের ও আরেকজন শ্রমিক দলের
পাবনা সদরের আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাটের হাজারাদার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের নেতা আব্দুস সালাম এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন- পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম (৫৫) ও তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে রিপন হোসেন (৩৫)।
আব্দুস সালাম পুষ্পপাড়া এলাকার ধর্মগ্রামের আরজ আলীর ছেলে। তিনি পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের সদর উপজেলার আহ্বায়ক ছিলেন। রিপন ছিলেন আব্দুস সালামের সহযোগী। তিনি পুষ্পপাড়া গ্রামের উমেদ আলী মেম্বারের ছেলে। এ ছাড়া তিনি আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি বলে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু নিশ্চিত করেছেন। নিহত সালাম ও রিপন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি করলেও তারা হাটটির ইজারাদার হিসেবে অংশীদার ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালাম ও রিপন পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে বসেছিলেন। এ সময় ৭ থেকে ৮ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে সালাম ও রিপনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।’

























