ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপুরা হত্যা মামলা: তিন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই বর্তমানে পলাতক। এর আগে পৃথক একটি মামলায়ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল।

এ ছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায়।

মামলার রায়ে আদালত তিনটি অভিযোগকে আমলে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ওইদিন বিকেলে সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি তার মাথা ভেদ করে পাশেই থাকা তার দাদি মায়া ইসলামকে প্রাণঘাতীভাবে আঘাত করে, এতে তিনি নিহত হন।

এই তিনটি ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রামপুরা হত্যা মামলা: তিন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৮:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই বর্তমানে পলাতক। এর আগে পৃথক একটি মামলায়ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল।

এ ছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায়।

মামলার রায়ে আদালত তিনটি অভিযোগকে আমলে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ওইদিন বিকেলে সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি তার মাথা ভেদ করে পাশেই থাকা তার দাদি মায়া ইসলামকে প্রাণঘাতীভাবে আঘাত করে, এতে তিনি নিহত হন।

এই তিনটি ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।