ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাহরাম ছাড়া নারীর হজ সফর: ইসলাম কী বলে?

নিজস্ব সংবাদ :

ইসলামে হজ এমন একটি ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর জীবনে একবার ফরজ করা হয়েছে। তবে এই ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো পূরণ হলে একজন মুসলমানের ওপর হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়।

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক শর্ত

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী হজ ফরজ হওয়ার জন্য সাধারণত পাঁচটি বিষয় থাকতে হয়—

  • মুসলমান হওয়া
  • সুস্থ বিবেক ও জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া
  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া
  • স্বাধীন হওয়া
  • আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা

এই শর্তগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে নারীদের জন্য একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, আর তা হলো মাহরাম সঙ্গী থাকা

নারীর হজে মাহরামের গুরুত্ব

ফিকহবিদদের একটি বড় অংশের মতে, কোনো নারী যদি দীর্ঘ সফরে যান, বিশেষ করে হজের উদ্দেশ্যে, তাহলে তার সঙ্গে স্বামী অথবা এমন কোনো মাহরাম পুরুষ থাকা প্রয়োজন, যার সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

“যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য মাহরাম ছাড়া তিন দিন বা ততোধিক দূরত্বের সফর করা বৈধ নয়।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪২৩

স্ত্রী একা হজে গেলে কী করতে বলেছিলেন নবীজি (সা.)?

সহিহ বোখারিতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি নবী কারিম (সা.)-কে জানান যে তিনি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন, কিন্তু তার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নির্দেশ দেন—

“ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ আদায় করো।”
— সহিহ বোখারি, হাদিস: ৫২৩৩

আরেক বর্ণনায় হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে এসেছে—

“মাহরাম ছাড়া কোনো নারী তিন দিনের পথ সফর করবে না।”
— সহিহ বোখারি, হাদিস: ১০৮৬

মাহরাম না থাকলে করণীয় কী?

কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার অন্যান্য সব শর্ত পূরণ হলেও যদি তার সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো মাহরাম না থাকে, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে তার জন্য নিজে হজে যাওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। এ অবস্থায় তিনি ইচ্ছা করলে বদলি হজ করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।

উপসংহার

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই হজ পালনের ক্ষেত্রে শুধু আগ্রহ বা সামর্থ্যই যথেষ্ট নয়; শরিয়তের নির্ধারিত বিধানও মেনে চলা জরুরি। নারীদের হজের ক্ষেত্রে মাহরাম প্রসঙ্গটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আইনশাস্ত্রে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়ে আসছে। ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির পরামর্শ গ্রহণ করাই উত্তম।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাহরাম ছাড়া নারীর হজ সফর: ইসলাম কী বলে?

আপডেট সময় ০৫:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে হজ এমন একটি ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর জীবনে একবার ফরজ করা হয়েছে। তবে এই ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো পূরণ হলে একজন মুসলমানের ওপর হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়।

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক শর্ত

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী হজ ফরজ হওয়ার জন্য সাধারণত পাঁচটি বিষয় থাকতে হয়—

  • মুসলমান হওয়া
  • সুস্থ বিবেক ও জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া
  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া
  • স্বাধীন হওয়া
  • আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা

এই শর্তগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে নারীদের জন্য একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, আর তা হলো মাহরাম সঙ্গী থাকা

নারীর হজে মাহরামের গুরুত্ব

ফিকহবিদদের একটি বড় অংশের মতে, কোনো নারী যদি দীর্ঘ সফরে যান, বিশেষ করে হজের উদ্দেশ্যে, তাহলে তার সঙ্গে স্বামী অথবা এমন কোনো মাহরাম পুরুষ থাকা প্রয়োজন, যার সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

“যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য মাহরাম ছাড়া তিন দিন বা ততোধিক দূরত্বের সফর করা বৈধ নয়।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪২৩

স্ত্রী একা হজে গেলে কী করতে বলেছিলেন নবীজি (সা.)?

সহিহ বোখারিতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি নবী কারিম (সা.)-কে জানান যে তিনি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন, কিন্তু তার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নির্দেশ দেন—

“ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ আদায় করো।”
— সহিহ বোখারি, হাদিস: ৫২৩৩

আরেক বর্ণনায় হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে এসেছে—

“মাহরাম ছাড়া কোনো নারী তিন দিনের পথ সফর করবে না।”
— সহিহ বোখারি, হাদিস: ১০৮৬

মাহরাম না থাকলে করণীয় কী?

কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার অন্যান্য সব শর্ত পূরণ হলেও যদি তার সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো মাহরাম না থাকে, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে তার জন্য নিজে হজে যাওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। এ অবস্থায় তিনি ইচ্ছা করলে বদলি হজ করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।

উপসংহার

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই হজ পালনের ক্ষেত্রে শুধু আগ্রহ বা সামর্থ্যই যথেষ্ট নয়; শরিয়তের নির্ধারিত বিধানও মেনে চলা জরুরি। নারীদের হজের ক্ষেত্রে মাহরাম প্রসঙ্গটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আইনশাস্ত্রে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়ে আসছে। ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির পরামর্শ গ্রহণ করাই উত্তম।