ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

মনিরুজ্জামান মনির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এবারের বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “বৃক্ষরোপণে দেশ গড়ি, সবার আগে বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল অংশ নিয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের আওতায় জিআইএস (GIS), রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি এবং জাতীয় বৃক্ষ ডাটাবেস ব্যবহার করে বনায়ন কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে আরও আধুনিক ও টেকসই রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করেন এবং বৃক্ষরোপণকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেন। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের দুলাহাজারা মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৯:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মনিরুজ্জামান মনির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এবারের বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “বৃক্ষরোপণে দেশ গড়ি, সবার আগে বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল অংশ নিয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের আওতায় জিআইএস (GIS), রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি এবং জাতীয় বৃক্ষ ডাটাবেস ব্যবহার করে বনায়ন কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে আরও আধুনিক ও টেকসই রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করেন এবং বৃক্ষরোপণকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেন। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের দুলাহাজারা মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।