পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ বন্যা-ভূমিধস হলে যা করবেন
পাহাড় মানেই মেঘ, সবুজ, ঝরনা আর রোমাঞ্চ। তাই বর্ষা কিংবা ছুটির মৌসুমে পাহাড়ি পথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন অনেকেই। পাহাড়ের সৌন্দর্য যতটা মুগ্ধ করে, বর্ষায় তার ঝুঁকিও ততটাই ভয়ংকর। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল কিংবা হঠাৎ ভূমিধস মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে ভ্রমণের পুরো চিত্র। তাই পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার আগে গন্তব্যের পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও জরুরি।
পাহাড়ের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঝুঁকিও কম নয়। বিশেষ করে টানা বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা কিংবা ভূমিধস মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে পুরো পরিস্থিতি।
ভূমিধসের ঝুঁকি বুঝবেন কীভাবে?
ভূমিধস সাধারণত পাহাড়ের ঢালে মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসার ঘটনা। ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ের মাটিতে অতিরিক্ত পানি জমা কিংবা ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভ্রমণের সময় পাহাড়ের ঢালে নতুন ফাটল, অস্বাভাবিকভাবে মাটি বসে যাওয়া, ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ পানির প্রবাহের পরিবর্তন চোখে পড়লে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এমন কোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হবে।
গাড়িতে থাকলে
পাহাড়ি রাস্তায় সামনে মাটি বা পাথর পড়তে দেখলে গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। নিরাপদ দূরত্বে গাড়ি থামান। তবে ভূমিধসের একেবারে পাশে গাড়ি থামানোও বিপজ্জনক, কারণ প্রথম ধসের পর আরও মাটি বা পাথর নেমে আসতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বা উদ্ধারকারী দলের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ভূমিধস শুরু হলে
মাটি বা পাথর যে দিক দিয়ে নিচে নামছে, সেই প্রবাহের সামনে না গিয়ে দ্রুত পাশের তুলনামূলক নিরাপদ উঁচু জায়গায় সরে যেতে হবে। ভূমিধস খুব কাছে শুরু হলে নিজে উদ্ধারকাজে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে জরুরি সহায়তার খবর দিন।
পাহাড়ি ঝরনার পাশে থাকলে সতর্ক
পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি না হলেও উজানে ভারী বৃষ্টি বা বরফ-হিমবাহজনিত ঘটনার কারণে হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যেতে পারে। নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগে আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোত পাহাড়ি নদীপথ ধরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
তাই পাহাড়ে ক্যাম্পিং বা ঘোরাঘুরির সময় নদীর একেবারে তীরে তাবু স্থাপন করা উচিত নয়। পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে মনে হলে ছবি তুলতে বা দৃশ্য দেখতে দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত উঁচু জায়গায় চলে যেতে হবে।
একা পাহাড়ে না যাওয়াই ভালো
অপরিচিত পাহাড়ি এলাকায় একা ঘোরাঘুরি না করে স্থানীয় গাইড বা অভিজ্ঞ দলের সঙ্গে থাকা নিরাপদ। আবহাওয়া খারাপ হলে পরিকল্পনা বাতিল করতেও দ্বিধা করা উচিত নয়। পাহাড়ে একটি সুন্দর ছবি বা নির্ধারিত গন্তব্যের চেয়ে নিরাপদে ফিরে আসা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


























