পাপুয়ায় বিদ্রোহীদের হামলায় মার্কিন পাইলট নিহত, বিমানেও আগুন
ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের হামলায় এক মার্কিন পাইলট নিহত হয়েছেন। হামলার পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৩ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামরিক সূত্র জানায়, হাইল্যান্ড পাপুয়ার ইয়াহুকিমো এলাকায় একটি ছোট উড়োজাহাজ অবতরণের পর সশস্ত্র বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। হামলায় মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিন নিহত হন। পরে হামলাকারীরা বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। সংগঠনটির মুখপাত্র সেবি সামবম দাবি করেন, উড়োজাহাজটি বারবার ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করছিল এবং তাদের জারি করা সতর্কবার্তা অমান্য করেছিল। এ হামলার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় সরকারের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের হামলা হতে পারে।
পাপুয়ার সামরিক মুখপাত্র উইরিয়া আরতাদিগুনা জানান, নিহত পাইলটের মরদেহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এছাড়া ওই বিমানে থাকা সাতজন স্থানীয় যাত্রীর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে জাকার্তায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অস্ত্রধারী সদস্যদের স্বাধীনতার প্রতীক ‘মর্নিং স্টার’ পতাকা উত্তোলন করতে এবং হামলার দায় স্বীকার করতে দেখা গেছে।
হামলার শিকার উড়োজাহাজটি পিটি এএমএ পরিচালিত একটি বেসামরিক বিমান। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিমানগুলো দুর্গম পাপুয়া অঞ্চলে নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি, ডাক ও জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়। তবে এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পাপুয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মের্টেনসকে অপহরণ করেছিল একই গোষ্ঠী। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর জিম্মি থাকার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মুক্তি পান।
























