জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচি, থাকবে ২২ ধরনের আয়োজন
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আলোচনা সভা, রক্তদান, গ্রাফিতি অঙ্কন, পথনাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিজয় মিছিলসহ মোট ২২টি কর্মসূচির মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও তাৎপর্য তুলে ধরবে দলটি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
৩ জুলাই জেলা পর্যায়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব)-এর উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ৫ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে ধানমন্ডি ক্লাব মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
৯ জুলাই গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ১১ জুলাই জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
১২ জুলাই ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে ‘প্রতিরোধে পরাজিত গণশত্রু’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিমের স্মরণে পৃথক কর্মসূচিও পালন করা হবে।
১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে মৌন মিছিল এবং ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
১৯ জুলাই রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে কৃষক দল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে জিয়া উদ্যানসহ বিভিন্ন জেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে।
২২ জুলাই মহিলা দল নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে। ২৩ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাইয়ে লাশের সারি’ শীর্ষক প্রতীকী স্মৃতিস্তম্ভ প্রদর্শন এবং দৃক গ্যালারিতে কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
২৬ জুলাই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘রোড টু জুলাই’ শিরোনামে গ্রাফিতি অঙ্কন ও গণসংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৭ জুলাই বিভাগীয় পর্যায়েও একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে।
২৮ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও করোনা প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই দিনে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে শিশু অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
৩১ জুলাই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালিত হবে।
২ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে পথনাটক মঞ্চস্থ করা হবে। পাশাপাশি উত্তরা, রামপুরা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৪ আগস্ট যুবদল পৃথক কর্মসূচি পালন করবে।
মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী দিনে, ৬ আগস্ট বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানী), ইমরান সালেহ (প্রিন্স), স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না), সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন), নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

























