ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা ঋণ, পাবেন যারা

স্টাফ রিপোর্টার:

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা ঋণ

সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক গতি ফেরাতে অর্থায়ন ও সহায়তার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেক (১০ লাখ টাকা) দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক থাকবে এককালীন অনুদান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

কর্মসূচির আওতায় তফশিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। পরে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করে অর্থায়ন করা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ শতাংশ হবে। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত প্রয়োজন হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। পাশাপাশি ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদনের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হলে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যাবে। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীর একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পর এক মাস আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আট জেলা— মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন।

পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। তখন প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়ন নয়, নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উপজেলা পর্যায়ের তরুণরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা ঋণ, পাবেন যারা

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক গতি ফেরাতে অর্থায়ন ও সহায়তার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেক (১০ লাখ টাকা) দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক থাকবে এককালীন অনুদান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

কর্মসূচির আওতায় তফশিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। পরে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করে অর্থায়ন করা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ শতাংশ হবে। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত প্রয়োজন হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। পাশাপাশি ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদনের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হলে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যাবে। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীর একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পর এক মাস আবেদন গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আট জেলা— মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন।

পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। তখন প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়ন নয়, নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উপজেলা পর্যায়ের তরুণরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।