ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির শেষ বিদায়ে গালফের নীরবতা, সৌদির প্রতিনিধি না থাকায় নতুন জল্পনা

নিজস্ব সংবাদ :

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত হলেও অনুপস্থিত ছিল সৌদি আরব। শুধু সৌদি নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশও কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনা তৈরি করেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশি অতিথিদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৪ মাস আগে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিয়েছিলেন। অথচ এবার খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি আরব কোনো প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করেনি।

একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনও কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠায়নি। এছাড়া এসব দেশ এখন পর্যন্ত খামেনির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তাও প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের অভাব নয়; বরং ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে গালফ দেশগুলোর সতর্ক অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে তারা এখনই কোনো বার্তা দিতে চাইছে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ওই হামলার দিনই পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: হাউজ অব সৌদ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খামেনির শেষ বিদায়ে গালফের নীরবতা, সৌদির প্রতিনিধি না থাকায় নতুন জল্পনা

আপডেট সময় ১২:১২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত হলেও অনুপস্থিত ছিল সৌদি আরব। শুধু সৌদি নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশও কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনা তৈরি করেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশি অতিথিদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৪ মাস আগে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিয়েছিলেন। অথচ এবার খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি আরব কোনো প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করেনি।

একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনও কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠায়নি। এছাড়া এসব দেশ এখন পর্যন্ত খামেনির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তাও প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের অভাব নয়; বরং ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে গালফ দেশগুলোর সতর্ক অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে তারা এখনই কোনো বার্তা দিতে চাইছে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ওই হামলার দিনই পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: হাউজ অব সৌদ