কোটি মানুষের ঢল নামার অপেক্ষা: ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খামেনির শেষ বিদায়
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত এই নেতার মরদেহবাহী কফিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহরানের একটি মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, সামরিক নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া খামেনির স্মরণে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে তার জানাজার প্রধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সোমবার রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একটি বিশাল শোকমিছিল বের হবে। পরবর্তী ধাপে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমে। সেখান থেকে ইরাকের নজফ ও কারবালা সফর শেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরো কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারত, রাশিয়া ও চীনসহ ৩০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক ধর্মীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। তিনি ইরানকে পাকিস্তানের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর পাকিস্তানে সংঘটিত বিক্ষোভে অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদি। তার জনসমক্ষে উপস্থিতি দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
























