ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফটারশকে আবারও কাঁপল ভেনেজুয়েলা, মৃত বেড়ে ১,৪৩০; নিখোঁজ প্রায় ৫১ হাজার

নিজস্ব সংবাদ :

গত বুধবারের বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলের আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। নতুন এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, কয়েক দিন আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক অনুকম্পনে দেশজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

বুধবারের ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া প্রায় ৫১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই সময়সীমা অতিক্রম করায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বহু বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা এবং কারাবালেদার একটি ধসে পড়া সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। এর প্রভাব রাজধানী কারাকাসের কয়েকটি এলাকাতেও পড়েছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন এবং স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপের পাশে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা মানুষের কান্না আর উৎকণ্ঠায় এখন শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে ভেনেজুয়াজুড়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আফটারশকে আবারও কাঁপল ভেনেজুয়েলা, মৃত বেড়ে ১,৪৩০; নিখোঁজ প্রায় ৫১ হাজার

আপডেট সময় ০৩:১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

গত বুধবারের বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলের আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। নতুন এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, কয়েক দিন আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক অনুকম্পনে দেশজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

বুধবারের ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া প্রায় ৫১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই সময়সীমা অতিক্রম করায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বহু বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা এবং কারাবালেদার একটি ধসে পড়া সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। এর প্রভাব রাজধানী কারাকাসের কয়েকটি এলাকাতেও পড়েছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন এবং স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপের পাশে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা মানুষের কান্না আর উৎকণ্ঠায় এখন শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে ভেনেজুয়াজুড়ে।