ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপিল বিভাগে বহাল হাইকোর্টের রায়: ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের সাংবিধানিক বিধান

নিজস্ব সংবাদ :

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে দেওয়া হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের সাংবিধানিক বিধান পুনর্বহালের পথ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেন। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে এবং এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

মামলার শুনানিতে রিটকারী ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয় এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছিলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি আস্থাও দুর্বল হয়েছে। এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বিলুপ্ত হওয়া গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় গণভোট বাতিলসংক্রান্ত বিধান টিকতে পারে না।

হাইকোর্ট আরও রায় দেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপিল বিভাগে বহাল হাইকোর্টের রায়: ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের সাংবিধানিক বিধান

আপডেট সময় ০৫:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে দেওয়া হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের সাংবিধানিক বিধান পুনর্বহালের পথ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেন। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে এবং এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

মামলার শুনানিতে রিটকারী ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয় এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছিলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি আস্থাও দুর্বল হয়েছে। এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বিলুপ্ত হওয়া গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় গণভোট বাতিলসংক্রান্ত বিধান টিকতে পারে না।

হাইকোর্ট আরও রায় দেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।